মুঠোফোন সেবা ব্যবহারে নতুন করে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বৃদ্ধি করায় সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। তারা বলেছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও গ্রাহকের চাপের কথা বিবেচনা করে বাড়তি শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
বুধবার রাজধানীর বনানীতে বাজেট–উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এসব কথা বলেছে। এতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহক ও টেলিযোগাযোগ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেবার মূল্য বৃদ্ধি করায় গ্রাহকেরা মুঠোফোনে অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিতে পারেন। এতে টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধি ও সরকারের রাজস্ব আয়—দুটোই কমবে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটবের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তাইমুর রহমান ও গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন উপস্থিত ছিলেন।
রবির করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের প্রধান সাহেদ আলম বলেন, গত দুই বছরে দেশে মূল্যস্ফীতি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে টানা ছয় প্রান্তিকে মোবাইল অপারেটরগুলোর আয় কমেছে। এসবের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ও অর্থবিলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেগুলো দেশের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অর্থবিলের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে আরও ৫ শতাংশ কর আরোপ করে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকম কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট করহার ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভয়েস ও ডেটা সেবায় ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং সিম সংযোগের ওপর বাড়তি ১০০ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করা হয়েছে।
সংগঠনটি মনে করে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও গ্রাহকের চাপের কথা বিবেচনায় বাড়তি শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
এসবের মাধ্যমে নতুন করে গ্রাহকদের ওপর আরও করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান বাংলালিংকের করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান তাইমুর রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে ১০০ টাকার মুঠোফোন সেবা ব্যবহারে গ্রাহকদের সর্বমোট কর দিতে হবে ৩৯ টাকা, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
এ প্রসঙ্গে রবির কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, বাংলাদেশে মুঠোফোন সেবার ওপর করহার এ অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা আয় করলে তার ৫৮ টাকাই সরকার পাবে বিভিন্ন ধরনের কর ও ফি বাবদ। এমন পরিস্থিতিতে যৌক্তিক কর নির্ধারণের মাধ্যমে ভোক্তার মুঠোফোন সেবা ব্যবহার বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন বলেন, যেখানে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেটের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে উল্টো শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ ধারণার বিরোধী।
অনুষ্ঠানে অ্যামটব জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে একেকজন মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৬ জিবি ডেটা ব্যবহার করেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই পরিমাণ ২৭-২৯ জিবি। অন্যদিকে দেশের আট কোটি গ্রাহক এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছেন।
সুতরাং দেশে গ্রাহক পর্যায়ে ডেটার ব্যবহার বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে বলে জানান অ্যামটবের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার। তিনি বলেন, সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব মিলবে। তবে করের পরিবর্তে ডেটার ব্যবহার বাড়িয়েই এই রাজস্ব আদায় সম্ভব।