ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু আজ থেকে। শনিবার থেকে ২৭শে মে পর্যন্ত আগাম টিকিট বিক্রি করেছে রেলওয়ে। ফিরতি যাত্রার আগাম টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। তবে এবার যাত্রীদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে রেল। জরুরি ভিত্তিতে রেলস্টেশন থেকেই তাৎক্ষণিকভাব কাটা যাবে ট্রেনের টিকিট। ঈদে রেলের ছাদে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে যাতায়াত না করতে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে কমলাপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়াও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে।
বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে তাৎক্ষণিক টিকিট ব্যবস্থা, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, স্টেশনভিত্তিক যাত্রীসেবা সমপ্রসারণ, ওয়েটিং স্পেস বৃদ্ধি, ট্রেনের সময়সূচি সমন্বয় এবং লেভেল ক্রসিং আধুনিকায়নের মতো নানা পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রেলস্টেশনগুলোয় সীমিত পরিসরে তাৎক্ষণিক টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হবে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা শেষ মুহূর্তেও বৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
তিনি বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে বিনা টিকিটের যাত্রী যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অপেক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, ওয়াশরুমের মানোন্নয়ন এবং কালোবাজারি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে, সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং টিকিটও দেয়া হবে। কারণ চাহিদা অনেক বেশি। আমাদের কাছে হয়তো ৩ শতাংশ সক্ষমতা আছে, কিন্তু চাহিদা ১০ শতাংশেরও বেশি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় লোকোমোটিভ ও কোচের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ৮৬ থেকে ৮৭টি লোকোমোটিভ নিয়মিত পরিচালনায় প্রয়োজন হয়। কিছু সময় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে জটিলতা তৈরি হয়। তবে আমরা দ্রুত মেরামত করে সেগুলো পুনরায় সার্ভিসে আনার চেষ্টা করছি।
ওদিকে, শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার চাপ বাড়ছে। সকাল থেকেই কমলাপুর থেকে ১১টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি ছাদে উঠে ভ্রমণ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় সর্বনিম্ন শ্রেণিতে আসনসংখ্যার ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। স্ট্যান্ডিং টিকিটসহ মোট টিকিটের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭০ হাজার।
শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। মাত্র তিনদিনের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করতে হয়। আমাদের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ঈদযাত্রা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জনগণ সচেতন থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ঈদে পাঁচ জোড়া ঈদ বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে পাঁচ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এর মধ্যে আছে, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে তিস্তা ঈদ স্পেশাল, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল, জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল। তাছাড়াও কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করছে রেলওয়ে। শুক্রবার থেকে এসব ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পশুবাহী এইসব বিশেষ ট্রেনগুলোর প্রতিটিতে ব্রেকভ্যানসহ মোট ২৬টি করে কোচ বা বগি যুক্ত থাকছে।