শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন




আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: রায় হয়, ঝুলে থাকে সাজা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ১০:৩৬ am
female Women Homosexuality sexual sex Rape eye chok couple husband wife woman female partner marriage divorce widow spouse bride married relationship groom bridegroom ধর্ষণ রেপ যৌন নিগ্রহ নির্যাতন সমলিঙ্গ পুরুষ নারী উভকামী রুপান্তরিত লিঙ্গ সমকামিতা চোখ কপাল মহিলা মেয়ে মানুষ নারী সুন্দরী স্মার্ট আবেদনময়ী শিশু বিয়ে-শাদী বিয়ে শাদী নিকাহ তালাক নিবন্ধন রেজিস্ট্রার কাজী লাইসেন্স মুসলিম বিবাহ মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস রেজিস্ট্রেশন বর মহিলা বউ স্বামী স্ত্রী স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্য দম্পতি H-W বিয়ে
file pic

মাগুরার আছিয়া, ফেনীর নুসরাত, এমসি ছাত্রাবাসে তরুণী, সুবর্ণচরে গৃহবধূ। আলোচিত এসব ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আলোড়িত হয়েছিল গোটা দেশ। দ্রুততম সময়ে এসব মামলার রায়ও হয়েছিল। কিন্তু সাজা ঝুলে আছে বছরের পর বছর। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আটকে আছে উচ্চ আদালতে। ডেথ রেফারেন্স, আপিল শুনানি, নথি জটিলতা ও মামলার অতিরিক্ত চাপের কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অপরাধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পরও যদি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে, তাহলে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোতে আইন অনুযায়ী বিস্তারিত শুনানি বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক সাক্ষ্য, জবানবন্দি ও আলামত পুনরায় বিশ্লেষণ করতে হয়। আইনজীবীদের মতে, নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার সম্ভব হলেও উচ্চ আদালতে পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও বিচারক সংকটের কারণে মামলার জট তৈরি হচ্ছে। আইনজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আদালতকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। কারণ এখানে একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িত। ফলে সময় বেশি লাগে। তবে অতিরিক্ত বিলম্বও ন্যায়বিচারের পথে বাধা। এ বিষয়ে সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু বলেন, ধর্ষণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি চাইলে আলাদা একটি বেঞ্চ গঠন করে দিতে পারেন। এতে অন্তত দীর্ঘদিন বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে।

এ বিষয়ে এডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, বিচারহীনতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে। শিশু ধর্ষণের মতো আলোচিত মামলা নিম্ন আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালতে এসে আটকে যায়। প্রধান বিচারপতি চাইলে এসব মামলার বিচারের জন্য দ্রুত একটি আলাদা বেঞ্চ গঠন করে দিতে পারেন।
গতকাল একদল আইনজীবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলো থেকে উদ্ভূত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেছেন। আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন সময়ে অধস্তন আদালতে চাঞ্চল্যকর, নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হলেও হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল এবং আপিল বিভাগের আপিল শুনানি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মো. মাজহারুল হক বলেন, মাননীয় বিচারপতিরা শিশু ধর্ষণসহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাগুলো দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির ব্যাপারে আন্তরিক। মাননীয় প্রধান বিচারপতি এ ধরনের মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির ব্যাপারে প্রয়োজনের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

২০২৫ সালের ৫ই মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। এ ঘটনায় শিশুটির মা ৮ই মার্চ মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ১৩ই মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। ঘটনাটি প্রকাশের পর সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। এক মাসের মধ্যে ১৩ই এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৭ই এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০শে এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। ২৩শে এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭শে এপ্রিল মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১৩ই মে যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ই মে বিচারিক আদালত এক মাসেরও কম সময়ে মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আছিয়ার পরিবারের অভিযোগ, রায় ঘোষণার পর তারা ভেবেছিলেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা হতাশ।

২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চারদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করার পর থেকেই নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়া হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার পর দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্তের পর মাত্র ৬১ কার্যদিবসে বিচার শেষ করে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। আদালত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে সেই রায়ের পর শুরু হয় আরেক দীর্ঘ অপেক্ষা। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার নথিপত্র বিশাল হওয়ায় এবং একাধিক আসামির পৃথক আপিল থাকায় শুনানি দীর্ঘ হচ্ছে। নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, দ্রুত বিচার হলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা এখনো ন্যায়বিচারের শেষ ধাপ দেখতে পাননি।

সুবর্ণচর গণধর্ষণ: ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট না দেয়ার জের ধরে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২০ সালে আদালত ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে মামলাটি এখনো উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, এত বড় মামলায় সাক্ষ্য, আলামত ও আইনগত বিষয় বিশ্লেষণে সময় লাগছে।

এমসি কলেজ: ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে ধর্ষণ

২০২০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে গেলে এক দম্পতিকে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বামীকে বেঁধে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম সামনে আসে। ঘটনার পর সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। দ্রুত তদন্ত শেষে মামলার বিচার শুরু হয়। আদালত একাধিক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিলের কারণে মামলাটি এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে সমাজে ভুল বার্তা যায়।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকলে সমাজে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যায় এবং জনগণের মধ্যে বিচারহীনতার ধারণা তৈরি হয়। মানবজমিন




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD