সুশাসিত বাংলাদেশ নির্মাণে রাষ্ট্রকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজাতে হবে। সুনির্দিষ্ট কৌশলনির্ভর পথরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও নির্দশন রক্ষায় সাধারণ জনগণ এবং শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের ধারাবাহিকতায় ‘নবীন-প্রবীণের’ সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী এ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে টিআইবি। ‘মুক্তিযুদ্ধের সরকার’ নামধারী স্বৈরতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা করেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এর বিচার দাবি করেছে টিআইবি।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জবাবদিহিহীন ও ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ অপশক্তিকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ নজিরবিহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরাভূত করেছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পর নতুন করে স্বাধীনতার চেতনার বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটাকে কাজে লাগাতে নতুন সরকারকে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।’
টিআইবি মনে করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠন করতে হবে। এ জন্য এর ব্যবস্থাপনা ও কর্মকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের মতো একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী কীভাবে এমন জনরোষের শিকার হলো, এর অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি বাহিনীটির কাঙ্ক্ষিত পেশাগত উৎকর্ষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি-কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
পরাজিত সরকার ক্ষমতার স্বার্থে পুলিশ বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে অপব্যবহার করেছে বলে উল্লেখ করে টিআইবি বলেছে, তারপরও নির্বিচার পুলিশ তথা কোনো সরকারি কর্মচারীকে হত্যা বা তাদের প্রতি কোনো ধরনের সহিংস আচরণ করা গর্হিত অপরাধ। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘অনেক জায়গায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ রাত জেগে পাহারা দেওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও মন্দিরে এখনও হামলার ঘটনা ঘটছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অনেক নির্দশন ও স্থাপনায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মব-জাস্টিস’ বা উগ্র জনতার বিচার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। স্বৈরাচারের অপশাসনের কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আক্রমণ অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আত্মপরিচয় ধ্বংসকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে ।
আক্রোশ ও শত্রুতার বশবর্তী হয়ে যে কোনো ধরনের প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে এবং সত্যিকারের অপরাধীর আইনানুগ পদ্ধতিতে শাস্তি নিশ্চিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।