রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন




মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৩০ am
Dollar রিজার্ভ Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar
file pic/Reuters

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাড়ছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে ১০টি দেশ থেকে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান এবং কাতার থেকে অর্থ পাঠাতে খরচ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম খরচ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি থেকে। সব ক্ষেত্রে যত ছোট রেমিট্যান্স তত বেশি খরচের হার।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ ১০ দেশ থেকে অর্থ পাঠানোর খরচের তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সেখান থেকে এপ্রিল-জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে প্রথম তিন মাসে গড়ে ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ খরচ ছিল। এপ্রিল-জুনে বেড়ে যা ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে।

২০১ ডলার থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ থেকে সামান্য কমে এপ্রিল-জুনে দশমিক ৯৪ শতাংশে নেমেছে। আর ৫০০ ডলারের বেশি অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম তিন মাসের গড়ে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে খরচ বেড়ে এপ্রিল-জুনে দশমিক ৫০ শতাংশ ব্যয় করতে হয়েছে প্রবাসীদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল। আবার কম আয়ের শ্রমিকদের জন্য এসব দেশে ব্যাংক হিসাব খোলা বেশ জটিল। যে কারণে এমনিতেই সেখান থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেশি ছিল। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় অর্থ পাঠানোর খরচ আরও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রবাসীরা মোট ৮৫৯ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ১০ দেশ থেকে এসেছে ৭৩২ কোটি ডলার। প্রথম তিন মাসে আসা মোট রেমিট্যান্সের যা ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শ্রমিক থাকেন সৌদি আরবে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে ১৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৮ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৬৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। পর্যায়ক্রমে ইতালি থেকে ৬০ কোটি ২২ লাখ, কুয়েত ৪৪ কোটি ১৮ লাখ, সিঙ্গাপুর ৪১ কোটি ৮১ লাখ, ওমান থেকে ৪১ কোটি ২৩ লাখ এবং দশম অবস্থানে থাকা কাতার থেকে এসেছে ৩৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ এসব দেশের মধ্যে কোন দেশ থেকে কেমন খরচ হচ্ছে তা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যাচ্ছে–গত এপ্রিল-জুন সময়ে ২০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ খরচ হয়েছে ওমান থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ খরচ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের। কাতার থেকে গড়ে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ খরচ হয়েছে। খরচে চতুর্থ অবস্থানে থাকা কুয়েত থেকে হয়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। সৌদি আরব থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে খরচ হয়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে গড়ে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ খরচ হয়েছে। রেমিট্যান্স আহরণে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে পাঠাতে গড়ে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ১০ শতাংশ। রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচে সিঙ্গাপুর থেকে খরচ হয়েছে গড়ে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ইতালি থেকে পাঠাতে খরচ হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম খরচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে হয়েছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ এবং মালয়েশিয়া থেকে অর্থ পাঠানোর খরচ বেশি হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। এসব দেশে যাওয়া শ্রমিকদের লেখাপড়া ও তুলনামূলক দক্ষতা কম থাকে। কম আয়ের শ্রমিকদের অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা অনেক জটিল। যে কারণে তাদের নগদ মুদ্রা নিয়ে সশরীরে এক্সচেঞ্জ হাউস, ব্যাংক বা মানি ট্রান্সফার এজেন্সিতে যেতে হয়। নগদ অর্থ গ্রহণ, কাগজের নথিপত্র যাচাই এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রক্রিয়ার জন্য বাড়তি সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো।

পশ্চিমা দেশগুলোর মতো মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে ডিজিটাল ফিনটেক অ্যাপের অবাধ প্রবেশাধিকার না থাকায় প্রতিযোগিতা কম হয়ে থাকে। এক্সচেঞ্জ হাউস খুলতেও এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নিয়ম, বিপুল অঙ্কের মূলধন এবং আইনি জটিলতা পার করে লাইসেন্স পেতে হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরণের দেশ সৌদি আরবে এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার অনুমোদন নেই, যা খরচ বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD