বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। ফলে আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলের সব জেলা ও সিলেটে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আগামী তিন দিন বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। দেশের বাকি এলাকাগুলোতেও বৃষ্টি চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সাগরের সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে প্রচুর মেঘ তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী তিন-চার দিন সারা দেশে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে। মাসের বাকি সময়জুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি থাকতে পারে।
শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
দেশের উপকূলীয় এলাকাসহ ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার ওপর দিয়ে দমকা হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। এ কারণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা আছে। গতকাল শুক্রবার দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সন্দ্বীপে ১৮৭ মিলিমিটার। রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছিল, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে তিন দিন দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছিল। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তাপপ্রবাহের কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছায়। সারা দেশের আকাশে মেঘ বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। আগামীকাল তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
আজ সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন রাঙামাটিতে ২৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। শনিবার ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে। আজ দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে।