রমাদানের প্রস্তুতিকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি:
১. ব্যক্তিগত প্রস্তুতি।
২. পারিবারিক প্রস্তুতি।
৩. সামাজিক প্রস্তুতি।
ব্যক্তিগত প্রস্তুতি :
১. রমাদানকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো। সুনিদির্ষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। পরিকল্পনা হলো আয়নার মতো। আমি নিজেকে আয়নাতে যত সুন্দর দেখতে পছন্দ আমার পরিকল্পনাটি যেনো সেরকম সুন্দর হয়।
প্রথমেই নিয়ত সহিহ করব। ইখলাসের সাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবো। দু’আ করে যাব, তিনি যেন আমাকে সাহায্য করেন। যাতে আমি যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি। তা বাস্তবায়ন করতে পারি। আমলের মাধ্যমে শুধু তার সান্নিধ্যে অর্জন করতে পারি।
২. কুরআন কারীম শুদ্ধ করব। নিয়মিত তেলাওয়াত করব। কুরআন কারীম খতম করা খুবই সহজ। প্রতি ওয়াক্ত সলাতে মাত্র ৪পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করলে ৩০ দিনেই খতম করা সম্ভব।
৩. কুরআনের হাফেয না হলে, প্রতিদিন কিছু কিছু হিফয করার চেষ্টা করবো।
৪. রমাদানে সিয়ামের গুরুত্ব অনুধাবন করার চেষ্টা করবো। উৎসাহ-উদ্দীপনায় সিয়াম-সাধনার জন্য মনকে প্রস্তুত করে নিব। হাদীসের কিতাব থেকে কিতাবুস সাওম পড়ে নিব। রোযার মাসআলাগুলো মনে রাখার জন্য এ বিষয়ে একটা বই পড়ার চেষ্টা করবো।
৫. নিত্য প্রয়োজনীয় জরুরী কাজগুলো আগেই সেরে নিতে পারি। বিশেষ করে ভারি কাজগুলো।
৬. রমাদান মাসের প্রয়োজনীয় বাজার, ঈদ সংক্রান্ত শুকনো ও ভারি বাজারগুলো আগেই সেরে রাখব।
৭. পরিবার থেকে দূরে থাকলে আব্বু-আম্মু ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনদের সাথে রমাদানের আগেই অন্তত একবার হলেও টেলিফোনে যোগাযোগ করব। তাদের কাছে দু’আ চাইব।
৮. এই রমাদানে, আল্লাহর রাস্তায় আমি কী পরিমাণে সদকা করব তা নির্ধারণ করে রাখার চেষ্টা করব। গরিব আত্মীয়-স্বজনদের ও গরিব প্রতিবেশীর কথা মনে রাখব। মসজিদের ইফতারে আর্থিকভাবে শরিক থাকব।
৯. বেশি বেশি দু’আ করব। রমাদান দু’আ কবুলের মাস! রমাদান উপলক্ষে বিভিন্ন সময় পঠিত দু’আগুলো শিখে নিব।
পারিবারিক প্রস্তুতি :
১. ঘরোয়া তালিমের মাধ্যমে রমাদানে ফাজায়েল ও করণীয়-বর্জনীয় বিষয় আলোচনা করতে পারি।
২. পরিবারের ছোট বড় সবাইকে নিজ নিজ প্রস্তুতির জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারি। প্রস্তুতি গ্রহণে একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।
৩. পরিবারের সবাই মিলে কাজগুলো ভাগ করে নিব। একে অপরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবো।
সামাজিক প্রস্তুতি :
১. নিজ প্রতিবেশীদের খোঁজ নিতে পারি। তাদের সাথে রমাদানের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা করে তাদেরকেও সহায়তা করতে পারি।
২. স্থানীয় মসজিদগুলোতে রমাদান কেন্দিক বিভিন্ন ধরণের আয়োজন করতে পারি। যারা ইতিকাফে বসবেন তাদের খেদমতে এগিয়ে আসতে পারি।
৩. রমাদানের পূর্বেই দৈনিক তালিমের মাধ্যমে রমাদান বিষয়ক আলোচনা করতে পারি। ঘরের মা-বোনদের জন্যও আলোচনার ব্যবস্থা করতে পারি।
৪. সবাই মিলে সমাজের অবহেলিত, অনাহারি মানুষগুলোর জন্য সাহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা নিতে পারি। এ ব্যাপারে একে অপরকে উৎসাহিত করতে পারি।
(বই: রমাদান কারীম, পৃ. ১৮-১৯)
IFM desk