বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন




সত্যিকারের তাওবাকারীর স্তরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫ ৮:০৪ pm
namaz namaj salat নামাজ সালাত Baitul Mukarram National Mosque-বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ-Outlookbangla.com-আউটলুকবাংলা ডটকম গুলশানে মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন dua দোয়া দু'আ doa dua দোয়া দুআ masjid masazid maszid islam azan dua doa ajan আজান দোয়া আযান মাসজিদ মাসাজিদ ইসলাম
file pic

তাওবা পরবর্তী জীবনযাপন সম্পর্কে ইসলামী শিক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে, যা কেবল ইস্তিগফারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একজন বান্দাকে সত্যিকারের তাওবাকারীর স্তরে প্রতিষ্ঠিত করে। নিচে প্রতিটি পয়েন্টকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. জবানকে অনর্থক কথা, গীবত ও মিথ্যা কথা থেকে বাঁচিয়ে রাখা

> “হে ঈমানদারগণ! তোমরা বহু ধারণা থেকে বিরত থাকো। কিছু ধারণা তো পাপ। এবং তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?”
(সূরা হুজুরাত, ৪৯:১২)

> রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিনে ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।”
(সহীহ বুখারী, ৬০১৮; মুসলিম, ৪৭)

তাওবার পর জবানকে সংযত রাখা না গেলে সহজেই আবার পাপের স্রোতে ফিরে যাওয়া সম্ভব।

২. অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষ না রাখা

> “আর যারা তাদের পূর্বে (হিজরতে) ঈমান এনেছে, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে… এবং নিজেদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা রাখে না তাদের প্রতি, যাদেরকে (তাদের চেয়ে) বেশি কিছু দেওয়া হয়েছে।”
(সূরা হাশর, ৫৯:৯)

> রাসূল ﷺ বলেন,
“তিনটি বিষয় যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমানের স্বাদ পাবে… এবং সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সর্বাধিক ভালোবাসবে, এবং কাউকে ভালোবাসবে শুধু আল্লাহর জন্য, এবং আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেমন অপছন্দ করে, তেমনি কুফরিতে ফিরে যাওয়া অপছন্দ করবে।”
(সহীহ বুখারী, ১৬; সহীহ মুসলিম, ৪৩)

অহঙ্কার, হিংসা ও বিদ্বেষ তাওবার আলোককে নিভিয়ে দেয়।

৩. অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা

> “হে মোমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গী হও।”
(সূরা তাওবা, ৯:১১৯)

> রাসূল ﷺ বলেন,
“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর থাকে, তাই তোমরা দেখবে সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।”
(আবু দাউদ, ৪৮৩৩; তিরমিযী, ২৩৭৮)

অসৎ সঙ্গ যেমনভাবে তাওবাকে ধ্বংস করে, তেমনি নেক সঙ্গ তাওবাকে টিকিয়ে রাখে।

৪. গুনাহের উপকরণ থেকে দূরে থাকা

> “তোমরা ফাহিশা বা অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন।”
(সূরা আনআম, ৬:১৫১)

> রাসূল ﷺ বলেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কারণে কিছু পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দেন।”
(মুসনাদ আহমদ)

অর্থাৎ, কেবল গুনাহ না করলেই হবে না, গুনাহের পথ—চোখ, কানে হারাম দেখা-শোনা, অবাধ মেলামেশা, অপসংস্কৃতির সাহচর্য—সবই পরিত্যাজ্য।

৫. মরণকে স্মরণ ও গুনাহের জন্য বারবার লজ্জিত ও ক্ষমা চাওয়া

> “তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করে ফেলে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চায়। আর আল্লাহ ছাড়া কে আছে পাপ ক্ষমাকারী?”
(সূরা আলে ইমরান, ৩:১৩৫)

> রাসূল ﷺ বলেন,
“সবচেয়ে বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে।”
(তিরমিযী, ২৪৫৯)

মৃত্যুর স্মরণ অন্তরকে নরম করে, গুনাহের লজ্জা চোখে অশ্রু আনে, যা তাওবাকে গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী করে।

তাওবা একটি সূচনা। কিন্তু তাওবার ওপর টিকে থাকা হচ্ছে প্রকৃত সফলতা। এজন্য উপরের কাজগুলো পালন করা একান্ত জরুরি। বিশেষত যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, তা হলো—গুনাহের উপকরণ থেকে দূরে থাকা। কারণ এগুলোই পুণরায় তাওবাকে ভেঙে দেয়।

> اللهم اجعلنا من التوابين، واجعلنا من المتطهرين.
“হে আল্লাহ! আমাদেরকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, এবং অন্তর ও আমলে পবিত্র রাখুন।”

IFM desk




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD