দুই ওপেনার উড়ন্ত শুরু এনে দিলেও বাকিদের ব্যর্থতায় দেড়শ রানের আগেই থেমে যায় পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ। তবে বোলাররা সেই পুঁজি নিয়ে লড়াই করলেন। ভারত মাঝারি মানের সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়ে শুরুতে বিপদে পড়লো। তবে তিলক ভার্মা একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ভারতকে এনে দেন রোমাঞ্চকর এক জয়। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। প্রথম বলে আসে ২ রান, পরের বলেই ছক্কা মারেন তিলক। আর আসরে প্রথমবার ম্যাচ খেলতে নামা রিংকু সিংয়ের শটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মাতে ভারত।
এশিয়া কাপের ফাইনালে গতকাল দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারায় ভারত। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় সূর্যকুমার যাদবের দল। ৫৩ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা ভারতের তিলক ভার্মা। চলতি আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটা ভারতের হ্যাটট্রিক জয়। এর আগে গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরেও জিতেছে তিলক-অভিষেকরা। এর আগে গত আসরেও এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সবমিলিয়ে এশিয়া কাপে এটা ভারতের নবম শিরোপা।
রান তাড়ায় শুরুতেই বিপদে পড়ে ভারত। ২০ রানে ভারতের ৩ উইকেট তুলে নেয় পাকিস্তান। পুরো টুর্নামেন্টে রান বন্যা বইয়ে দেওয়া অভিষেক শর্মাকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ। অভিষেক বোকা বনে যান আশরাফের স্লোয়ারে। ১১১ কিমি/ঘণ্টার কাটারে মিড অনে ধরা পড়েন অভিষেক। পরের ওভারে ভারত অধিনায়ককে বিদায় করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। আফ্রিদির স্লোয়ার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন তিনি। মিড অফ থেকে এগিয়ে এসে ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা। একই অস্ত্র স্লোয়ারে কাটা পড়েন শুভমান গিলও। ফাহিম আশরাফের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তিনি।
৪ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন তিলক ভার্মা ও সঞ্জু স্যামসন। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩৬ রান। নবম ওভাবে নতুন জীবন পান স্যামসন। আবরার আহমেদের বলটা তুলে মারতে গিয়ে ঠিকঠাক টাইমিং করতে পারেননি স্যামসন, কিন্তু ডিপ মিড উইকেট থেকে ছুটে এসে বল মুঠোবন্দী করতে চেয়েও পারেননি ফিল্ডার হুসাইন তালাত। ১০ ওভারে ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫৮ রান।
স্যামসনকে সঙ্গী করে এগোতে থাকেন তিলক। ১৩তম ওভারে সেই আবরারই স্যামসনকে বিদায় করেন। বড় শট খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করেন স্যামসন। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন সাহিবজাদা ফারহানের হাতে। এরপর শিবম দুবেকে নিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেন তিলক। হারিস রউফের করা ১৫তম ওভার থেকে ১৭ রান তুলে নেয় ভারত। শিবম দুবে একটি চার মারার পর তিলক বর্মা মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ওভারের শেষ বলে তিলকের ছক্কায় ১০০ স্পর্শ করে ভারত।
২০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে আসেন তিলক। শুরুর চাপ সামলে দারুণ ব্যাটিংয়ে খেলায় ফেরান ভারতকে। ১৬তম ওভারে ফিফটি পূর্ণ হয় এই বাঁহাতি ব্যাটারের। শেষ ৩ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। ১৮তম ওভারে ১৩ রান আসে। ১৯তম ওভারে ১০ রান দিলেও দুবেকে তুলে নেন ফাহিম আশরাফ। শেষ ওভারে ১০ রান করতে আর বেগ পেতে হয়নি ভারতকে।
এর আগে ফাইনালের চাপ সামলে পাকিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। ভারতের বিপক্ষে এর আগের ম্যাচেও ফিফটি করেছিলেন ফারহান। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গতকালও ফিফটি করেন তিনি।
নতুন বলে জাসপ্রিত বুমরাহ কিংবা মাঝের ওভারে কুলদিপ যাদবের মতো চায়নাম্যান, সবাইকেই স্বাছন্দ্যে খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৩৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া ফারহান করেন ৩৮ বলে ৫৭ রান। তার বিদায়েই ভাঙে ৮৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর সায়িম আইয়ুবকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন ফখর। তবে ১১ বলে ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।
এরপরই যেন ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। মোহাম্মদ হারিস-সালমান আলি আগারা দাঁড়াতেই পারেননি। বাকিদের আসা যাওয়ার মাঝেও ফখর জামান এক প্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে ৩৫ বলে ৪৬ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ফারহান ফেরার পর মাত্র ৩৩ রানের ব্যবধানে ৯ উইকেট হারায় পাকিস্তান। শুরুতে মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ কমপক্ষে ২০০ এর কাছে যাবে। কিন্তু আচমকা ব্যাটিং ধ্বসে ১৪৬ রানেই আটকে যায় তারা।