রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে ভিপি ও এজিএস পদে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির; তবে হাতছাড়া হয়েছে জিএস পদ। আর শীর্ষ তিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পেরে এ বিশ্ববিদ্যালয়েও ভরাডুবি হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের।
ভিপি হিসেবে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং এজিএস পদে এস এম সালমান সাব্বির জয়ী হয়েছেন।
আর জিএস নির্বাচিত হয়েছেন ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার।
রাকসুর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের শীর্ষ দুই পদে শিবিরের প্রতিদ্ব্ন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর এবং এজিএস পদে জাহিন বিশ্বাস এষা।
অপরদিকে জিএস পদে শিবিরের প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও আধিপত্যবিরোধী ঐক্যের প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
শান্তিপূর্ণভাবে বৃহ্স্পতিবার ভোট শেষের পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে রাতজুড়ে পৃথকভাবে ১৭টি হল সংসদের ফল প্রকাশ করে রাকসু ভোটের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন।
ভিপি পদে জাহিদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। ছাত্রদলের আবীর পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।
এজিএস পদে এস এম সালমান সাব্বির পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭১ ভোট আর ছাত্রদলের এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৪১ ভোট।
আর জিএস পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৫৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজার ভোট ৫ হাজার ৭২৯।
এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে জয়ের ধারা বহাল রাখল ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও বড় ধরনের অনিয়ম-গোলযোগ ছাড়াই টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নয়টি ভবনে ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০৯ শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২০ হাজার ১৮৭ জন। ভোটের হার ৬৯.৮৩ শতাংশ।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সব কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ও বাক্স কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভোট গণনা শুরু হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৭টি হল আছে। এর মধ্যে ছয়টি মেয়েদের এবং ১১টি ছেলেদের। রাতভর এসব হলের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
ভিপি: মোস্তাকুর রহমান জাহিদ
জিএস: সালাউদ্দিন আম্মার
এজিএস: এস এম সালমান সাব্বির
ক্রীড়া সম্পাদক – নার্গিস খাতুন
সহক্রীড়া সম্পাদক – আবু সাইদ মোহাম্মদ
সাংস্কৃতিক সম্পাদক – জাহিদ হাসান
সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক – মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম
মহিলা সম্পাদক – সাইয়্যেদা হাফসা
সহমহিলা সম্পাদক – সামিয়া জাহান
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক – বি এন নাজমুস সাকিব
সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক – সিফাত আবু সালেহ
মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক – মোহাম্মদ মোজাহিদ ইসলাম
সহমিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক – আসাদুল্লাহ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক – তোফায়েল আহমেদ তোফা
সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক – মোজাহিদুল ইসলাম সায়েম
বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক – ইমরান মিয়া লস্কর
সহবিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক – মোহাম্মফ নয়ন হোসেন
পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক – আবদুল্লাহ আল মাসুদ
সহপরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক – মাসুমা ইসলাম মুমু
বিজয়ী চার কার্যনির্বাহী সদস্য
মোহাম্মদ দীপ মাহবুব
মোহাম্মদ ইমজিয়াল হক কামালী
সুজন চন্দ্র
এবি এম খালেদ
সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি
সালাউউদ্দীন আম্মার
মুস্তাকুর রহমান জাহিদ
ফাহিম রেজা
আকিল বিন তালেব
সালমান সাব্বির