সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ১১:০৮ am

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাবাডি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের নানা সমস্যা সমাধানের নামে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বোনাস থেকে এই তহবিল গঠন করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ কাবাডি ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ১৫ জন নারী খেলোয়াড়ের বোনাসের ওপর ১০ ভাগ হারে প্রায় তিন লাখ টাকা তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন কাবাডি ফেডারেশনের কর্তারা।

গত বছর মার্চে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ২০ বছরের খরা কাটিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন কাবাডির মেয়েরা। ২০০৫ সালে প্রথম আসরের ব্রোঞ্জ পরবর্তীতে খুইয়ে ফেলে লাল-সবুজের ললনারা। দ্বিতীয় ব্রোঞ্জপদককে এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পদকজয় বলে চালিয়ে দেন কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ। তবে পদক পুনরুদ্ধার করায় বেশ প্রশংসিত হন রুপালি আক্তাররা। গত বছর মেয়েদের বিশ্বকাপ কাবাডির দ্বিতীয় আসর আয়োজন করতে ব্যর্থ হয় ভারত। ফলে প্রায় ১০ কোটি টাকা বাজেটে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন আয়োজন করে দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেয় ভারত, চাইনিজ তাইপে, জার্মানি, ইরান, কেনিয়া, নেপাল, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, উগান্ডা এবং জাঞ্জিবার। এই টুর্নামেন্টেও ব্রোঞ্জপদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন রুপালি আক্তার, শ্রাবণী মল্লিকরা। এই দুই টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ জেতা দলের সদস্যরা হলেন- শ্রাবণী মল্লিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রুপালি আক্তার (সিনিয়র), স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারি, মেবি চাকমা, রুপালি আক্তার (জুনিয়র), আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুন, লোবা আক্তার, ইয়াসমিন খানম, ইসরাত জাহান সাদিকা, তাহরিম ও লাকী আক্তার।

গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদকজয়ীদের এক লাখ টাকা করে বোনাস দেন। দুই টুর্নামেন্টের হিসাবে কাবাডির ১৫ জন মেয়ের প্রত্যেকে দুই লাখ টাকা করে পেয়েছেন। কিন্তু এই বোনাস থেকে ১০ শতাংশ হারে অর্থ ফেডারেশনে জমা দিতে বলেছেন কাবাডির কর্তারা। সূত্রে জানা গেছে, খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের ইনজুরির জন্য আপদকালীন একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। যেখানে ১৫ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা জমা করার লক্ষ্য। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে খেলোয়াড়দের মধ্যে। তা কেউ কেউ সেই অর্থ জমা দিয়েছেন। আবার অনেকেই দেননি বলে জানা গেছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় বলেন, ‘আমাদের অনেকের পরিবার অর্থকষ্টে রয়েছে। এই বোনাসের অর্থ দিয়ে আমরা পরিবারের নানা সমস্যা মেটাই। কিন্তু ফেডারেশনকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই ফান্ড কি ফেডারেশনের অর্থায়নে করা যায় না? আমাদের টাকা থেকে কেন?’

বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নু। তার কথা, ‘এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। তাই আমরাও নিচ্ছি।’ ফান্ড গঠনের জন্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি শুনে হতবাক বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হক। তার কথা, ‘আমি তো জানি দুই থেকে তিন হাজার টাকা হবে। কিন্তু ১০ ভাগ করে তা জানি না।’ তবে আগে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফান্ডের নামে এমন কোনো অর্থ আদায় করা হয়নি বলে জানান সাবেক কোষাধ্যক্ষ এসএমএ মান্নান। তার কথা, ‘আমরা বিদেশে রেফারিং করতে যাওয়া রেফারিদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নিয়ে ফান্ড করতাম। কিন্তু কখনোই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার রেকর্ড ছিল না। যে বলেছে, সে আংশিক সত্য বলেছে।’

কাবাডির এই খবর শুনে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক আবদুল গাফফার। তার কথা, ‘এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। কল্যাণ তহিবলের জন্য ফান্ড গঠন করতে হলে, অন্য অনেক উপায় রয়েছে। ক্রীড়াবিদদের বোনাসের অর্থ থেকে চাঁদা তুলে কেন ফান্ড গঠন করতে হবে? এটা ঘৃণ্যতম কাজ।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি অনেক ক্রীড়াবিদকে বিপদে সরকারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে সহায়তা করেছি। কিন্তু কখনোই তাদের কাছ থেকে ফান্ড গঠন বা অন্য কোনো কারণে কমিশন বা চাঁদা আদায় করিনি। এমন ঘটনা ক্রীড়াবিদদের ব্যথিত করে।’
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD