ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ। এ নিয়ে সক্রিয়ভাবে দূতিয়ালি চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মধ্যস্থতায় নেমেছে কাতারও। তাদের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও আইএসএনএ জানায়, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তা উপস্থাপনের দুদিন পর তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটা ছিল পাকিস্তানের মন্ত্রীর কয়েক দফা বৈঠকের একটি। নাকভি যুদ্ধ শেষ করা ও মতপার্থক্য দূর করার জন্য একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় ‘কিছু ভালো লক্ষণ’ দেখা গেছে। কিন্তু তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালু করে, তাহলে কোনো সমাধান হতে পারে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান কার্যত বেশির ভাগ জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। রুবিও বলেন, ‘কিছু ভালো লক্ষণ আছে। আমি অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না। দেখা যাক আগামী কয়েক দিনে কী হয়।’ ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্র রয়টার্সকে জানান, মতপার্থক্য কমে এসেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালি এখনও অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।
এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে। তেলের দামের উল্লম্ফন লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে উস্কে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।
শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে গতকাল মার্কিন ডলার ছয় সপ্তাহের মধ্যে তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা কোনো যুগান্তকারী সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে যায়। অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিশ্বব্যাপী প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ১০৪ দশমিক ৫ ডলার, যা আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রসঙ্গে আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘আমরা ১২তম সপ্তাহের শেষের দিকে চলে এসেছি। যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহ পার হয়েছে। কিন্তু আমি সত্যিই ততটা নিশ্চিত নই যে, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছি।’
ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ধ্বংস করে দেব: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করবে। ওয়াশিংটন মনে করে, এ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহার করবে ইরান। অন্যদিকে ইরান বলছে, এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এটা নেব। আমাদের এর প্রয়োজন নেই; আমরা এটা চাইও না। পাওয়ার পর সম্ভবত আমরা এটা ধ্বংস করে দেব। কিন্তু আমরা তাদের এটা নিতে দেব না।’ এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এ ইউরেনিয়াম বিদেশে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে ইরানের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা এটিকে উন্মুক্ত ও মুক্ত রাখতে চাই। আমরা কোনো টোল চাই না। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।’ ইরান বলছে, হরমুজের একটি অংশ ইরানের জলসীমায় পড়ে। এ কারণে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা প্রণালিতে টোল আরোপ করবে।