বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন




শীতের দাপট কতদিন থাকবে জানালেন আবহাওয়াবিদ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:৩৯ pm
Mild cold wave আবহাওয়া তাপমাত্রা পূর্বাভাস কুয়াশা লঘুচাপ বঙ্গোপসাগর সেলসিয়াস tem Weather আবহাওয়া Rain বৃষ্টি Cold wave শৈত্যপ্রবাহ শৈত্য প্রবাহ Climate Change Conference COP27 Cold শীত winter season temperate climate polar autumn coldest Cold পৌষ মাঘ শীতকাল তাপমাত্রা ঋতু হিমেল হাওয়া হাড় কাঁপুনি সর্দিজ্বর ঠান্ডা শৈত্যপ্রবাহ
file pic

পৌষের শেষে এসে জেঁকে বসেছে শীত। এবারের শীত মৌসুমে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের দশ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যা আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী। আকাশে কুয়াশার ঘনত্ব খুব বেশি না থাকলেও হিমেল হাওয়ার দাপটে শীতের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকানে জ্বালানো আগুন ঘিরে দাঁড়িয়ে গা গরম করেন শ্রমজীবী মানুষ। এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের তীব্রতা বাড়ায় রাজশাহীতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

পঞ্চাশোর্ধ্ব রিকশাচালক ফিরোজ আলী বলেন, ‘সকাল আর বিকেলের ঠান্ডায় হাত-পা জমে যায়। কিন্তু কাজে না বের হলে সংসার চলে না। এমন শীত পড়েছে যে রাস্তায় টিকে থাকাই কষ্টকর হয়ে উঠছে।’

গত দুসপ্তাহ ধরে টানা শৈত্য প্রবাহে জবুথবু চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। প্রায়দিনই চুয়াডাঙ্গার আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। চারিদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। গাড়িগুলো সড়কে হেডলাইন জ্বালিয়ে চলাচল করছে। অনেকেই খড়-কাঠের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকে সকালে শীতে কাঁপতে কাঁপতে কাজে বের হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আগামী রোববার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে শীতের দাপট কিছুটা কমবে। তবে শৈতপ্রবাহ আর বিস্তৃত হওয়ায় সম্ভাবনা নেই। শনিবার পর্যন্ত এরকম থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তাতে শীতের অনুভূতি কমবে।

তাপমাত্রা অত না কমলেও শীত বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ তুলে ধরে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, কুয়াশার কারণে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনূভূত হচ্ছে। শীত পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, কয়েকদিন তা অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৫, পাবনায় ৮ দশমিক ৫, যশোরে ৯ দশমিক ২, পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ৬, দিনাজপুর, নীলফামারীতে ৯, রাঙামাটিতে ৯ দশমিক ৮, বগুড়ায় ৯ দশমিক ৯ ও কুষ্টিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে কনকনে শীতের আবহের মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারের টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলেছিল, এ মাসে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।

বড় এলাকা জুড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে আবহাওয়াবিদরা তাকে বলেন মৃদু শৈতপ্রবাহ; থার্মোমিটারের পারদ ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মাঝারি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধ থেকে রোববার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ পাঁচ দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধ ও শুক্রবার কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে। বুধবার সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD