শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন




বাফুফেকে দেয়া ২০ কোটি টাকার সন্ধান চেয়েছে এনএসসি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:৫৭ am
Kazi Salahuddin Bangladesh Football Federation BFF বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিএফএফ বাফুফে কাজী সালাউদ্দিন
file pic

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) সরকারের দেওয়া ২০ কোটি টাকার হিসাব না পাওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তিন দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাব বিবরণীসহ ২০ কোটি টাকার সন্ধান চাওয়া হয়েছে বাফুফের কাছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে চিঠি দিয়েছে। গত বছরের ২৩ জুন দৈনিক ‘সরকারের দেওয়া ২০ কোটি টাকা হাপিস!’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এনএসসির সহকারী পরিচালক সাজিয়া আফরিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে সরকারের সিডমানির ২০ কোটি টাকার আদ্যোপান্ত খতিয়ে দেখতে বলেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। পরবর্তী সময়ে ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা শাহরিয়ার সুলতানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দেশের ফুটবল উন্নয়নে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বাফুফেকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ক্রীড়া সংস্থার মঞ্জুরির আওতায় অন্যান্য অনুদান খাতে এককালীন সরকারি অনুদান হিসাবে এই অর্থ দেওয়া হয়। শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাফুফে কর্তৃক কোনো সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নয়, বরং এই তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা হলে তা থেকে অর্জিত মুনাফা ফুটবলের নানাবিধ উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতে হবে বলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল। অথচ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেওয়া ২০ কোটি টাকার পুরোটাই হাপিস করে ফেলে বাফুফে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই বরাদ্দের কথা বলা হয়। ওই চিঠিতে (স্মারক নং-০৭.১২৩.০২০.০৩.৩৬.০১৬.২০২৩.৮১) বলা হয়েছিল, ‘ফুটবল খেলার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে তহবিল গঠনের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অনুকূলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের ক্রীড়া সংস্থার মঞ্জুরির আওতায় অন্যান্য অনুদান খাতে এককালীন সরকারি অনুদান হিসাবে ২০ কোটি টাকা দেওয়া হলো। কেবল ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাফুফে কর্তৃক কোনো সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নয়, বরং এই তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা হলে তা থেকে অর্জিত মুনাফা ফুটবলের নানাবিধ উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতে হবে।’

অথচ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেওয়া ২০ কোটি টাকার কোনো হদিস ছিল না বাফুফের অডিট রিপোর্টেও। ২০২০ সালে সরকারের দেওয়া বাজেট বরাদ্দের প্রথম কিস্তির ১০ কোটি টাকা খরচ না করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছিল বাফুফে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, সরকারের রাজস্ব বিভাগে আয়কর বাবদ ৫০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার তথ্য হিসাব বিবরণীতে রয়েছে। অথচ কর বাবদ একটি টাকাও জমা দেয়নি বাফুফে। ১০ কোটি টাকা খরচ না করেই ভুয়া হিসাব বিবরণী ক্রীড়া পরিষদে জমা দিয়েছে বাফুফে। সেই সঙ্গে বাজেটে বরাদ্দ বাকি ১০ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দেয় ফুটবল সংস্থাটি। সরকারের বাজেটে অর্থ এক খাত থেকে অন্য খাতে খরচের সুযোগ নেই। তারপরও বাকি ১০ কোটি টাকা নানা কায়দাকানুন করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় করিয়ে নিয়েছিল বাফুফে। তবে ক্রীড়া পরিষদের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল, দ্বিতীয় কিস্তির ১০ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসাবে রাখা হবে। ওই স্থায়ী আমানত থেকে পাওয়া লভ্যাংশ ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কিন্তু ঘটেছে ঠিক উলটোটা। ২০২০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর লংকা-বাংলা ফাইন্যান্সে ১০ কোটি টাকার মধ্যে এক বছর মেয়াদি ৯ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত রাখা হয়। বাকি এক কোটি টাকা খরচ দেখায় বাফুফে। বছর ঘুরতেই (৭ সেপ্টেম্বর ২০২১) স্থায়ী আমানত ভেঙে ফেলে বাফুফে। শুধু তাই নয়, নয় কোটি টাকার আমানতের বিপরীতে কয়েক দফা ঋণ নেয় বাফুফে। ফলে মেয়াদ শেষে লভ্যাংশ দূরে থাক, মূল টাকা পাওয়াই দায় হয়ে পড়েছিল বাফুফের। প্রায় দুই বছর আগে সরকারি বরাদ্দের ওই টাকা গায়েব করে ফেললেও বিষয়টি থেকে যায়। অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এই অনিয়ম উঠে আসে। বিষয়টি শুনে আঁতকে ওঠেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম। তিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ করা ২০ কোটি টাকা যে শর্তে দেওয়া হয়েছিল, তার ব্যত্যয় কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক। আমরা বাফুফের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছি। তিন দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাব বিবরণীসহ ২০ কোটি টাকার সন্ধান চাওয়া হয়েছে বাফুফের কাছে। উত্তর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ (যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD