এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে দলের নিরঙ্কুশ বিজয়কে গণতন্ত্রের বিজয় আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, এই বিজয় শুধু বিএনপির না, এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল, জনপ্রিয় দল। বিএনপির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের আবেগ আকাক্সক্ষা এবং অনুভূতি। বিএনপি গণ মানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতা দল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয়তাবাদের ধারক এই রাজনৈতিক দলটির প্রতি জনগণের যে অসাধারণ ভালোবাসা রয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই নির্বাচন। যেখানে আমরা দেখেছি অপ্রতিরোধ্য নিরঙ্কুশ বিজয়। আজকের এই বিজয় শুধু বিএনপির না, এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের।
মাহদী আমীন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের যে আস্থা, সমর্থন এবং ভালোবাসা আমাদের নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন। ইনশআল্লাহ ভবিষ্যৎ একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। অবশ্যই নিশ্চিত করবেন রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং আগামী বিএনপি সরকার জনগণের সে প্রত্যাশা প্রতিপালনের মাধ্যমে জবাবদিহীমূলক স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব সরকার ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, যে সরকারটি হবে, এই সরকার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথযাত্রার পর অনেক গুম, খুন, হামলা-মামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপর অনেক শহীদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং আমাদের নেতা ইনশাআল্লাহ শহীদদের মায়েদের যে প্রত্যাশা, সেটি পূরণ করবে। আগামী বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, সমস্যার সমাধান করবে। এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র অটুট রাখবে। এটি আমাদের নেতা সুনিশ্চিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে হয়রত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিজের অনূভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ফলাফল এক হচ্ছে আনন্দময়, আরেকটা হচ্ছে বিষাদময়। আমাদের দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনি এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না, এটা বিষাদময়। শত হাজার রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা চমৎকার উৎসবমুখর এবং একটা স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেফিনেটলি অভিভূত. মুগ্ধ। এই ধারাবাহিকতা যদি আমরা রাখতে পারি তাহলে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আমরা রক্ষা করতে পারব।
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলো, এই দলটি নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তিকাল বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসবে পরবর্তি সিদ্ধান্ত।
বিমান বন্দর থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব। এই সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন