বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন




১১ দল সংসদেও জোট করবে

১১ দল সংসদেও জোট করবে: ৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১:৫৬ pm
Bangladesh Jamaat-e-Islami বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী
file pic

ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ করে ৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে জোটের ভাষ্য, ইচ্ছাকৃতভাবে ফল বদলে দেওয়া, সন্ত্রাস, ম্যানিপুলেশন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ৩০টির মতো আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে যেসব ফলাফল দেওয়া হয়েছে, তাতে ওভাররাইটিং, ঘষামাজা হয়েছে। বিষয়গুলো তাৎক্ষণিক রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। কিছু আসনে ফল দ্রুত দেওয়া হলেও, ইচ্ছা করেই কিছু আসনে বিলম্ব করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয় আসনগুলো হলো– পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-১, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ-২ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ বাদে বাকি আসনগুলোতে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা সাত হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ময়মনসিংহ-১, ঢাকা-১৩ আসনে জোট শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণ একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন আশা করেছিল। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই কারচুপি-জালিয়াতি হয়েছে। ভোট দিতে বাধা, এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। যেমন ঢাকার কয়েকটি আসনে ভোর ৫টায় গিয়ে ফলাফল পেয়েছি।

ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে
রাতে জামায়াত কার্যালয়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়। এরপর জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনের পরও ১১ দলীয় ঐক্য থাকবে। সংসদ এবং বাইরে জোট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের স্বার্থে যখন যে ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, তা করা হবে।
নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন উঠেছে জানিয়ে হামিদুর রহমান বলেছেন, যেসব আসনে কারচুপির প্রমাণ রয়েছে, স্বল্প ব্যবধানে হারানো হয়েছে, সেগুলোতে পুনর্গণনার আবেদন করা হয়েছে। এসব আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিতের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে। অনেকে সময়ের অভাবে আবেদন করতে পারেননি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইসিতে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু গেজেট প্রকাশের কারণ দেখিয়ে অভিযোগগুলো গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগ নির্বাচন কমিশন গ্রহণ না করায় ১১ দলীয় জোট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাবে বলে জানিয়েছেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনে হাইকোর্টে যাব।
রোববার ১১ দল নির্বাচন কমিশনে যাবে জানিয়ে আযাদ বলেন, ৩০টির বেশি আসনে কারচুপির সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। এগুলো তুলে ধরা হবে কমিশনের কাছে।

গণভোটের ফল মানতে হবে
১১ দলের সমন্বয়ক বলেছেন, শুধু নির্বাচন নয়, গণভোটও হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে। এ বিষয়ে ১১ দলের অবস্থান স্পষ্ট। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হওয়ায় প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। এখানে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকলে, তা গ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ, জনগণ হ্যাঁ ভোট দিয়ে নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই।
হামিদুর রহমান বলেছেন, সংসদ বসার পর ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোটের অনুপাতে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ, গণভোটের জনরায় প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবে না, এমন শঙ্কা রয়েছে কিনা– প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘না’ ভোট বিজয়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেক্রেটারি জেনারেলের আসনে বিএনপি যত ভোট পেয়েছে, তত সংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে। ধানের শীষের পাশাপাশি ‘না’ ভোটের প্রচার করা হয়েছে। তাই শঙ্কা রয়েছে। তবে গণভোটকে উপেক্ষা করে কিছু করতে চাইলে, জনগণ মানবে না।

সহিংসতা বন্ধ না হলে আন্দোলন
হামিদুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পর অনেক জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। নারীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। কারণ, এই নির্বাচনে ১১ দলের পক্ষে নারীদের অবস্থান ছিল। কক্সবাজারে দুদিনে তিন নারীকে আক্রমণ করা হয়েছে। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসনে বিজয়ী হয়েছেন, তারা যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী আচরণ বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো।
ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে অভিযোগ করে হামিদুর রহমান বলেছেন, পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিস খুলেছেন একজন বিএনপি নেতা। একই কাজ হয়েছে মুন্সীগঞ্জে। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত বন্ধ করতে হবে।

জামায়াত আমিরের পোস্ট ডিলিট
কিছু আসনের ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছেন না বলে শনিবার বিকেলে ফেসবুকে যে পোস্ট দিয়েছিলেন, তা আধা ঘণ্টা পর ডিলিট করে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি লিখেছিলেন, যেসব আসন নিয়ে জামায়াত জোট প্রশ্ন তুলেছে, সেগুলো আইনি পন্থায় নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা চালাবেন জানিয়ে সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতির দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেছিলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে। আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। তবে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল আরও গভীর ও জটিল বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে।
তবে এ পোস্ট তিনি পরবর্তী সময় মুছে ফেলেন। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান সমকালকে বলেন, পোস্টটি মুছে ফেলার কারণ জেনে জানাতে পারবেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD