শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন




হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে খোলা আকাশের নিচে আমদানি পণ্যের স্তূপ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৪:২২ pm
টার্মিনাল এয়ারপোর্ট HSIA CAAB hazrat shahjalal international airport dhaka biman হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর
file pic

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্মুক্ত স্থানে পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ আমদানি করা পণ্য। কার্গো ভিলেজ ছাড়িয়ে এসব পণ্য বিমানবন্দরের রানওয়ে পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। পণ্যগুলোর বেশির ভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এসব পণ্য দ্রুত খালাস করতে সদস্য কারখানার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যেক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নি-দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আমদানি করা পণ্যসহ গুদাম পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ উদ্যোগে জরুরিভাবে আমদানি করা পণ্য সংরক্ষণে অস্থায়ী তাঁবু স্থাপন করা হয়।

সম্প্রতি এসব ভাড়া-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অস্থায়ী তাঁবু অপসারণ করা হয়েছে। ফলে গুদামেই পণ্য রাখতে হচ্ছে। তবে গুদামের ধারণ ক্ষমতা সীমিত থাকায় আমদানি করা অনেক পণ্যই গুদামের বাইরে উন্মুক্ত স্থানে রাখতে হচ্ছে। গুদামের বাইরে পণ্যের স্তূপ জমেছে। পণ্যের পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্তূপ বিমানবন্দরের রানওয়ে পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। এতে অনিরাপদ অবস্থায় পড়ে থেকে মূল্যবান আমদানি পণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। আবার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিবেচনায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আমদানি করা কাঁচামাল দ্রুত ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সদস্য কারখানাগুলোর কাছে অনুরোধ পাঠিয়েছে বিজিএমইএ।

আকাশপথে সাধারণত রপ্তানিমুখী পণ্যের স্যাম্পল বা নমুনা পরিবহন করা হয়। রপ্তানি আদেশ প্রক্রিয়ায় ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের পণ্যের নমুনা পাঠানো হয়। সেই নমুনা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে আবার ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় এ রকম একাধিকবার নমুনা পরিবহন করা হয়। আমদানি ও রপ্তানির এই প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ব্যবহার করা হয়। স্যাম্পল বা নমুনা পরিবহনের বাইরে জরুরি কিছু কাঁচামাল, এক্সেসরিজ আমদানিতেও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়া কুরিয়ারে পাঠানো আমদানি-রপ্তানি নথিপত্রও থাকে এর মধ্যে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, উন্মুক্ত স্থানে কুয়াশায় গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্য নষ্ট হচ্ছে। চাহিদামত কার্গো ভিলেজের ধারণ সক্ষমতা বাড়ানোর আগে অস্থায়ী তাঁবু এতো দ্রুত সরিয়ে আনা ঠিক হয়নি। এ কারণে বিপুল পরিমাণ স্যাম্পল এং কাঁচামাল বিমানবন্দরের খালি জায়গায় অরক্ষিত অবস্থায় ঝুঁকিতে আছে। এই ক্ষতি এড়িয়ে কীভাবে মূল্যবান এসব পণ্যকে ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায় সে বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, খোলা জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। এখন বৃষ্টি নেই, তবে রাতের কুয়াশায় ভিজে ও দিনের রোদে পুড়ে কিছু পণ্যের মান বিনষ্ট হচ্ছে। কিছু দিন পর বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ব্যবসায়ীরা মনঃক্ষুণ্ন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে তারা বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি। নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই আশা ব্যবসায়ীদের।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) হিসাব অনুসারে, গত অক্টোবরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে ২০০ কোটি টাকার রপ্তানিমুখী ওষুধসামগ্রী পুড়ে বিনষ্ট হয়। এতে রপ্তানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD