বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন




পাবনায় টেবুনিয়া ভূমি অফিসের জালিয়াতি

‘নিষ্কণ্টক’ জমি কিনে বিপাকে মুক্তিযোদ্ধা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৫৫ am
pabna পাবনা
file pic

পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশিষ্ট কলামিস্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ২০১৪ সালে তিনি মজিদপুর মৌজার ১১৮/১৫৭ দাগের এক একর জমি ক্রয় করেন। ক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন, জমিটি তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কর্তৃক ফজিলাতুন্নেছার নামে ১৯৮৯ সালে রেজিস্ট্রি হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধও করা হচ্ছিল। ফজিলাতুন্নেছা মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের (সুফিয়া খাতুন গং) নামে জমির নামজারি অনুমোদন ও খাজনা গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু, পরবর্তীতে জানা যায়, ২০১২ সালে পুনরায় খাজনা দিতে গেলে জমির মালিকদের (সুফিয়া খাতুন গং) কাছে ঘুস দাবি করে ব্যর্থ হওয়ার পর, তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নিষ্কণ্টক জমিটি ‘ক’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ জমির মালিকরা (সুফিয়া খাতুন গং) ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। পরে, উভয়পক্ষ মিলে জমিটি অন্যের নামে বিক্রির জন্য দ্বিতীয়বার জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ, প্রতারক চক্র ‘ক’ তফসিল করার বিষয়টি গোপন রেখে জমি বিক্রির পরিকল্পনা করে। ভূমি কর্মকর্তা ও জমির মালিকরা (সুফিয়া খাতুন গং) একত্রিত হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করতে বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। আর এই চক্রের ফাঁদে পড়ে ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ২০১৪ সালে জমিটি ক্রয় করেন। ২০১৭ সালে জমির খাজনা দিতে গিয়ে তিনি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক চিঠিতে জানান, জমিটি যথাযথভাবে রেজিস্ট্রি ও খাজনা পরিশোধ সত্ত্বেও ‘ক’ তফসিলভুক্ত হওয়ায় পুনরায় ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। ইসমাইল হোসেন বলেন, জালিয়াতির ঘটনায় জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাকে শাস্তি না দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার জ্বালিয়াতি এবং দুর্নীতির প্রতিকার কামনা করেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (বর্তমানে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ভূমি অফিসে কর্মরত) রফিকুল ইসলাস বলেন, তিনি টেবুনিয়া অফিসে যোগদানের আগে ‘ক’ তফসিলের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তাহলে ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি বিক্রি করে আপনি কীভাবে নামজারি করে দিলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসি অফিস থেকে সেসময় তার অফিসে গেজেটের কপি পাঠানো হয়নি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি নন। জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, তার কাছে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD