শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন




বাংলাদেশি ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডে কোন দেশে বেশি লেনদেন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৭ pm
visa logo VISA ATM ভিসা ডেবিট কার্ড এটিএম কেনাকাটা বিল পরিশোধ টাকা বুথ VISA ATM payment cardholder merchant Endrosment EMI Debit debt প্লাস্টিক ক্রেডিট ডেবিট ডিজিটাল প্রিপেইড কার্ড অনলাইন কেনা-বেচা কেনাকাটা ইএমআই খরচ ভিসা automated teller atm machine Booth অটোমেটেড টেলার মেশিন এটিএম মেশিন বুথ
file pic

বিদেশে বাংলাদেশি ব্যাংকের ইস্যু করা ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। একসময় বিদেশে লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারই ছিল বেশি, তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। এখন ডেবিট কার্ডও বিদেশে নানা ধরনের লেনদেনে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে হওয়া মোট লেনদেনের প্রায় ১৪ শতাংশই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই সময়ে বিদেশে ডেবিট কার্ডে হওয়া মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাজ্যে।

ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও ভারত। ডিসেম্বর মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের মোট ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি হয়েছে এই পাঁচ দেশেই।

অন্যদিকে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব ও আয়ারল্যান্ড। বিদেশে ডেবিট কার্ডে হওয়া মোট লেনদেনের প্রায় ৫৫ শতাংশই হয়েছে এসব দেশে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, বিদেশে ডেবিট কার্ডের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে। এরপর রয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সেবা ক্রয়ে।

অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ডিপার্টমেন্ট স্টোরে কেনাকাটায়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে খুচরা দোকান এবং পরিবহন খাত।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দেশটিতে ডেবিট কার্ডের ব্যবহারও বেশি। বিদেশে যাওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী দ্বৈত মুদ্রায় ব্যবহারযোগ্য ডেবিট কার্ড সঙ্গে নিয়ে যান। পরে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেন। ফলে সহজেই বিদেশে বসে সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারেন তারা।

তাদের মতে, ডেবিট কার্ড ব্যবহারে সুদের কোনো বিষয় না থাকায় অনেকেই ক্রেডিট কার্ডের তুলনায় এটি ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে বাংলাদেশিরা মোট ৩৯২ কোটি টাকা খরচ করেছেন, যা আগের মাস নভেম্বরে ছিল ৩৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ডেবিট কার্ডে বৈদেশিক লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে ডিসেম্বরে বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪৯১ কোটি টাকা। আগের মাসে এই পরিমাণ ছিল ৫১১ কোটি টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডে বৈদেশিক লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

ডেবিট কার্ডে বিদেশে হওয়া মোট ৩৯২ কোটি টাকার মধ্যে যুক্তরাজ্যেই খরচ হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ কোটি, ভারতে ৩৬ কোটি, সৌদি আরবে ৩৫ কোটি এবং আয়ারল্যান্ডে ৩১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ডে বিদেশে খরচ হওয়া মোট ৪৯১ কোটি টাকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে খরচ হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। থাইল্যান্ডে ৬৫ কোটি, যুক্তরাজ্যে ৪৪ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩৮ কোটি এবং ভারতে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন বাংলাদেশিরা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD