শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন




আমাদের রাজনীতি সুন্দর ন, পরিচ্ছন্ন না, আক্ষেপ মির্জা ফখরুলের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ৭:১৬ pm
Mirz-fakhrul Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর bnp
file pic

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল। আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়ায়ই করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করত। আমরা কেউ চাই না আর দেশে কোনো গোলযোগ হোক।

শুক্রবার (৮ মে) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রায়ের পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবিন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবনের সঙ্গে, কাজের সঙ্গে, কবিতার সঙ্গের বাইরের ব্যাপার ছিল। আমি কোনো তাত্ত্বিক নই, পন্ডিতও নই, সাহিত্যের ওপর বিশেষ কোনো পাণ্ডিত্য নেই। আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ভালোবাসি, নজরুলের সাহিত্য ভালোবাসি সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কোনোকিছু লিখতে পারি না। যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা শুনে, কবিতা লিখে অথবা যে মানুষটি গান শুনে, গান গায় সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়।

তিনি বলেন, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবিন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে একটা হতাশাবাদী গুষ্টি আছে তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে স্বতন্ত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি এই কথাটা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম.মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD