জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার নীতি উপেক্ষা করে ইউনিট প্রধান পরিবর্তনের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে সরিয়ে কনিষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ায় বিভাগের কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সার্জারি বিভাগের ইউনিট-৬ এর প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শফিউর রহমানকে সরিয়ে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমাদ সামি-আল-হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের অভিযোগ, অধ্যাপক ডা. শফিউর রহমান ১৭তম বিসিএস কর্মকর্তা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক। অপরদিকে ডা. আহমাদ সামি-আল-হাসান ২৫তম বিসিএস কর্মকর্তা। তিনি মাত্র দুই মাস আগে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে ডা. শফিউর রহমান অনেক এগিয়ে থাকলেও কোনো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কারণ ছাড়াই এ রদবদল করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, এটি ডা. সামি-আল-হাসানের ক্ষেত্রে প্রথম নয়। এর আগেও তিনি তার চেয়ে প্রায় সাত বছরের জ্যেষ্ঠ এক অধ্যাপককে সরিয়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন কোর্সের ডিনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বারবার জ্যেষ্ঠদের সরিয়ে কনিষ্ঠকে দায়িত্ব দেওয়ায় বিভাগের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও চেইন অব কমান্ড নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে অস্থিরতা চলছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের কোণঠাসা করা হচ্ছে, আর প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ একটি পক্ষ সুবিধা নিচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এতে স্বাস্থ্য খাতের স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক ডা. শফিউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন রয়েছে। ২০১৫ সালে মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আলোচিত হওয়া শিশু সুরাইয়া ও তার মাকে বাঁচিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ভূমিকা রাখেন। তখন মাগুরা সদর হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি তাদের চিকিৎসা দেন। এমন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসককে বিনা কারণে ‘হেনস্তা’ করায় বিভাগে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে মুগদা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হলে ডা. সামির নেতৃত্বে একটি পক্ষ তাকে যোগদানে বাধা দেয়। কলেজ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ওই চিকিৎসককে ঢামেকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, পেশাদারত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা অপরিহার্য। অন্যথায় চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
সার্জারি বিভাগের এই অস্থিরতা ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার চেষ্টা করেও ডা. আহমাদ সামি-আল-হাসানের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে সাধারণ চিকিৎসকদের প্রশ্ন- পেশাদারত্বের বাইরে গিয়ে কোন ক্ষমতাবলে জ্যেষ্ঠদের সরিয়ে কনিষ্ঠদের এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? তারা এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।