শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন




অসাধু থাবায় বাজারে বাজেটের সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১২:৪৬ pm
দাম বাড়বে কমবে inflation food market খাদ্যপণ্য খাদ্য পণ্য মূল্যস্ফীতি
file pic

বাজেটে খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক-কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রভাব নেই বাজারে। পরিস্থিতি এমন-সরকারের সিদ্ধান্তকে যেন তোয়াক্কাই করছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা। শুল্ক কমার এক সপ্তাহ পরও ভোক্তা পর্যায়ে কনেমি চাল, ডাল, তেল, মসলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়সহ প্রায় ৬০টি খাদ্যপণ্যের দাম। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে আগের উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে-সরকারি উদ্যোগের সুফল যাচ্ছে কোথায়। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নজরদারির ঘাটতি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে স্বস্তির বদলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে বাজেটের পর এবার পণ্য মূল্য না বাড়লেও একাধিক পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে নেই। চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ সব ধরনের পণ্যের দাম লাগামহীন। ক্রেতার ব্যয় বাড়লেও বাড়েনি আয়। এ কারণেই তীব্র হয়েছে সংকট। আর এই সংকট দূর করতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে। তার প্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ধান-চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, লবণ-চিনিসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ ছাড় দিয়ে করের মাত্রা ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেলেও দেওয়া হয়েছে ছাড়। বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনমনে স্বস্তি দিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যা বাজেট ঘোষণার পর থেকেই কার্যকর হয়েছে।

পাশাপাশি মসলা পণ্যেও মিলেছে কর ছাড়। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, এলাচসহ এ ধরনের পণ্যের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। এর হার ছিল ৩ শতাংশ। এটা মূলত অতিরিক্ত কর। যা বিলাসী পণ্যের আমদানি হ্রাস, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয় এবং স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় এই শুল্ক ধার্য করে সরকার। শিশুখাদ্য উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে শিশুখাদ্য উৎপাদনে ব্যয় কমবে। স্বস্তিতে থাকবে সাধারণ মানুষ। কিন্তু বাজেট ঘোষণার এক সপ্তাহ পার হলেও এসব পণ্যের দাম বাজারে কমেনি।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন বাজেটে শুল্ক কমানো ৬০টি পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। পাইজাম ও বিআর ২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা ও মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা। যা বাজেট ঘোষণার এক সপ্তাহ পরও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ টাকা। মাংসের মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা, দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০-৮৫০ টাকা। মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা। যা গত এক সপ্তাহ ধরে একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

শুল্ক ছাড়ের এক সপ্তাহ পরও প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। মসুর ডাল মানভেদে ১০৫-১৬০ টাকা। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। রসুন ১২০ থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকা। শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ৩০০-৪৫০ টাকা। প্রতি কেজি আদা ১৪০-২২০ টাকা, জিরা ৬০০-৭০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০-৬০০ টাকা, এলাচ ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও লবঙ্গ প্রতি কেজি ১৪০০-১৬০০ টাকা। যা গত এক সপ্তাহ ধরে একই দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৬০ টাকা, ময়দা ৫৫-৭৫ টাকা, লবণ ৩৮-৪২ টাকা ও চিনি ১০৫-১১০ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯-২০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বেশকিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণা হলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। তাই সাধারণ ভোক্তা যেন বাজেটের সুবিধা পান, সেজন্য বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

এদিকে, কমেনি সবজির দামও। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ১০০-১২০ টাকা, কাঁকরোল ৬০-৭০ টাকা ও বরবটি প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ট্যাক্স কমানো হলেও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোতে বসিয়ে রাখলে কর ছাড়ের সুফল ভোক্তা পর্যন্ত আসবে না। বিগত যত সরকার এসেছে, যতবার বাজেটে পণ্যের দাম কমিয়েছে, কোনো সময় দাম কমেনি। বরং যেসব পণ্যের কর বাড়ানোর কথা এসেছে, বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেছে বিক্রেতারা। তাই কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে। বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাজারে তদারকি চলমান আছে। এবার পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। যুগান্তর




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD