শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন




রাজশাহীতে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, অধিকাংশই সমকামী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১২:২৬ pm
Human Immunodeficiency Virus HIV এইচআইভি পজিটিভ রোগী হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস লেন্টিভাইরাস Lentivirus সংক্রমণ মানবদেহ এইডস AIDS রোগ এইচআইভি
file pic

রাজশাহীতে বেড়েছে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শনাক্ত ১৩৯ রোগীর মধ্যে ৯২ জনই সমকামী, যা মোট আক্রান্তের ৬৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমকামিতা, অবাধ যৌনাচার ও এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা মহামারিতে রূপ নিতে পারে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে এইচআইভি শনাক্ত হয় ১১৫ জনের শরীরে। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১০৫ জন, নারী ৯ জন এবং হিজড়া একজন। আক্রান্তদের মধ্যে বিবাহিত ৪৮ জন, অবিবাহিত ৬৭ জন। বয়সের হিসাবে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ জন, ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সি ৮০ জন। অন্যদিকে প্রবাসফেরত আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে চারজন।

আক্রান্তদের মধ্যে সমকামীর সংখ্যা ৫৮, যৌনকর্মীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তি ৩৫ জন, টিবি রোগে আক্রান্ত দুজন, যৌনকর্মী একজন, হিজড়া দুজন এবং সাধারণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন।

অন্যদিকে রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্যের বাইরে শনাক্ত হওয়া ৩৪ জন রোগীর তথ্য দিয়েছে আমার দেশকে। যাদের প্রত্যেকেই সমকামী। এদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং তিনজন হিজড়া সম্প্রদায়ের। এদের মধ্যে অবিবাহিত ৬ জন এবং বিবাহিত ২৫ জন। বয়সের হিসাবে ২৫ বছরের কম বয়সি নয়জন এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সি ২৫ জন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় এইচআইভিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭৯৪ জন। যার মধ্যে বগুড়ায় ১০৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২১ জন, জয়পুরহাটে ৩৭ জন, নওগাঁয় ৬৫ জন, নাটোরে ৪৩ জন, পাবনায় ৭৮ জন, রাজশাহীতে ১৩১ এবং সিরাজগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। যাদের সংখ্যা ৩১০ জন।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধান মতে, রাজশাহীতে নির্জন অন্ধকারাচ্ছন স্থানে নিয়মিত রাতে বসছে সমকামীদের জলসা। নগরীর সি অ্যান্ড বি মোড় (শিমলা), কোর্ট স্টেশন, ডিঙা ডোবা, ফুলতলাসহ (পদ্মার পাড়) বিভিন্ন জায়গাতে দেদারসে এ নিষিদ্ধ কাজ পরিচালনা করছেন তারা। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক গড়ে সমকামিতা প্রমোটে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে একটি চক্র।

তবে এসব নিষিদ্ধ কাজে খোলামেলা তৎপরতা চললেও প্রশাসনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। একই সঙ্গে বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবাধ যৌনাচার। ফলে একজন থেকে সহজেই বহুজন আক্রান্ত হচ্ছেন এইচআইভিতে।

রাজশাহীসহ সারা দেশে সমকামিতার ক্রমবর্ধমান বিস্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘সমকামিতা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর নৈতিক অবক্ষয় ও মানবসভ্যতাবিরোধী আচরণ। এটি শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী নয় বরং পরিবারব্যবস্থা ও নৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও অনিরাপদ যৌনাচার এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়।’

তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমেই সমাজকে এ ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। পাশাপাশি সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এইচআইভি আক্রান্তদের সমাজ বাঁকা চোখে দেখে মন্তব্য করে এইচআইভিতে আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন আপোষ-এর প্রকল্প ম্যানেজার এস এন আব্দুল্লাহ আল রেজা আমার দেশকে বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা ভালো নজরে দেখে না। তাদের ওপর বাঁকা নজর রাখে। ফলে তারা মানসিকভাবে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন না। এইচআইভি আক্রান্ত মানেই যৌনবাহিত কারণ নয়। বিভিন্নভাবে একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। সরকার বর্তমানে এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছে, তবে সামাজিকভাবেও তাদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে হবে।’

এইচআইভিতে আক্রান্ত একজনের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তিনি একসময় সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন পরে পরীক্ষা করার পর জানতে পারেন তিনি এইচআইভিতে আক্রান্ত। তিনি বলেন, সমকামীদের বিশাল একটা গ্রুপ আছে, তাদের একটা অংশ এই রোগে আক্রান্ত। তাদের থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে অন্যদের শরীরেও ছড়িয়ে এইডস মহামারি আকার ধারণ করতে পারে মন্তব্য করে তিনি সবাইকে এ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, গত কয়েক বছরে দেশে যেমন সমকামিতা বাড়ছে, সেই সঙ্গে হু হু করে বাড়ছে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আশির দশক পর্যন্ত এইডসকে কেবল পুরুষ সমকামীদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। যেসব পুরুষ এনাল সেক্সে আসক্ত তাদের পায়ুপথ ইঞ্জুরি বা চিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাই সংক্রমণের হারও অনেক বেশি।

তিনি আরো বলেন, এইচআইভি ভাইরাস পায়ুপথে দীর্ঘদিন সক্রিয় অবস্থায় থাকে। ফলে এ অবস্থায় কেউ সঙ্গম করলেই আক্রান্তের মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। এর পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে রক্ত আদান-প্রদান, একই সুচ ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির মাদক গ্রহণ কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ব্যবহার করা সুচ অন্য কারো শরীরে ব্যবহার এবং মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

আক্রান্তদের ট্রিটমেন্ট নিয়েও রয়েছে ভোগান্তি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার থাকার পরও বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে মেডিসিন নিতে হচ্ছে আক্রান্তদের। ফলে একদিকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া রোগীরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় একাধিক আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে। তারা জানান, গত ডিসেম্বর মাসে রামেকে এআরটি সেন্টার চালু হয়েছে। কিন্তু যারা ডিসেম্বরের আগে শনাক্ত হয়েছে তাদেরকে আগের মতো বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ট্রিটমেন্ট নিতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সিলিং সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডা. ইব্রাহিম মো. শরফ আমার দেশকে বলেন, সমকামীদের পাশাপাশি যারা যৌন পল্লীতে যাতায়াত করেন তাদের একটা বড় অংশ আক্রান্তের কাতারে রয়েছে। এ বৃদ্ধির হার কমাতে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। amardesh




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD