বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন




১৫ বছরে চট্টগ্রামে নির্মিত ৩০ হাজার ভবনের ৯৯ শতাংশই নকশাবহির্ভূত

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫৯ am
ctg Chattogram Chittagong City in Bangladesh চট্টগ্রাম
file pic

১৫ বছরে বন্দরনগরীতে প্রায় ৩০ হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে এর মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভবনই নির্মিত হয়েছে অনুমোদিত নকশার বাইরে। নগরবিদদের মতে, কার্যকর তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এখন এসব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নকশা অনুমোদন ও ভবন নির্মাণে কঠোরতা আরোপের কথা বলছে সিডিএ।

মহানগরী চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে অসংখ্য বহুতল ভবন। নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব সিডিএর। সংস্থাটি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৯ হাজার ৭০০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় সব ভবন নির্মিত হয়েছে।

নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণে বিভিন্ন নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। তবে সিডিএর সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনুমোদিত এসব ভবনের ৯৯ শতাংশই নকশা অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়নি। কোথাও রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও ছয়তলার অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ তলা। আবার অধিকাংশ ভবনেই রাখা হয়নি নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আপনি আমার কাছ থেকে ডিজাইন নিয়ে গেলেন, কিন্তু স্থানে গিয়ে ডেভিয়েশন করলেন। সামনে, পাশে ও পেছনে যতটুকু জায়গা ছাড়ার কথা, তার কিছুই মানছেন না। পাহাড় কেটে, ড্রেন ও নালার ওপর ভারী ভবন নির্মাণ করে নান্দনিক চট্টগ্রামকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। যেভাবে মানুষ শহরমুখী হচ্ছে, সেটি নিয়ন্ত্রণে আমরা স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলতে চাই। শহরকে নান্দনিক করার জন্য আমাদের নানা পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা তদারকির দায়িত্বও সিডিএর। তবে গত দেড় দশকে সেই তদারকি কার্যকরভাবে হয়নি। একই সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেও নেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

নগরবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, আইন অমান্য করে যে সুবিধা পাওয়া যায়, সেই সুবিধার তুলনায় যদি শাস্তির মাত্রা বেশি না হয়, তাহলে মানুষ নিয়ম ভাঙতেই থাকবে। সিডিএ যদি কোনো ভবন ভাঙতে চায়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন হয়। ম্যাজিস্ট্রেট নিতে হয় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। আবার সেদিন পুলিশও প্রয়োজন হয়। পুলিশ না পেলে সিডিএ সেটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। যদি সিটি গভর্নমেন্ট গঠিত হয় এবং এসব সংস্থা তার অধীনে থাকে, তাহলে নগর পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।

তবে এবার তদারকি জোরদারের পাশাপাশি নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন সেবার সংযোগ না দেয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছে সিডিএ।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ডিজাইন অনুমোদন দেয়ার পর সেই ডিজাইন অনুযায়ীই কাজ করতে হবে। যদি ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেয়া হবে না। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নামে যে লুটপাট হয়েছে এবং যেভাবে নান্দনিক শহরকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা একটি সুন্দর, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই।

এদিকে, অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ ঠেকাতে মন্ত্রণালয় গঠিত একটি কমিটিও কাজ করছে বলে জানিয়েছে সিডিএ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD