শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন




যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা: বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী হলো ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০১ pm
USA-BD ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa
file pic

বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার (বি-১ ও বি-২) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ফেডারেল নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, নতুন নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এই কর্মসূচি বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া নেপাল ও ভুটানের নাম রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিয়ম কেবল ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা, অর্থাৎ বি-১ ও বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য।

কত টাকা পর্যন্ত বন্ড দিতে হতে পারে
নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর কাছে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড চাইতে পারবেন।

তবে সব আবেদনকারীকেই বন্ড দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোন ক্ষেত্রে বন্ড প্রয়োজন হবে, তা কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

কেন আনা হলো এই নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সেই কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, বন্ড ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে পাঁচ হাজার, ১০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে পাঁচ হাজার ডলারের বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের পরও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন রোধে এটি কার্যকর হবে।

তবে অভিবাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই নীতি বৈধ ভ্রমণকারীদেরও নিরুৎসাহিত করবে। তাদের মতে, উচ্চ অংকের বন্ড অনেক আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ভিসার আবেদন ফি বাড়ানো হয়েছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও যাচাই করা হচ্ছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন তুলছে। পাশাপাশি, জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD