ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দল মাস্টারমাইন্ড ছিল না। অথচ আন্দোলনে অংশ না নেয়া ব্যক্তিরাও এখন নিজেদের মাস্টারমাইন্ড দাবি করছেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যারা শেখ হাসিনার বিদায়কে ‘মিরাকল’ বলেছিলেন, তারাই এখন অভ্যুত্থানের ভাগ-বাটোয়ারায় ব্যস্ত।
জুলাই আন্দোলন বিপ্লবীদের জন্য সহজ ছিল না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সে সময় বিপ্লবীদের আশ্রয় দেয়ার মতো কেউ ছিল না। এমনকি আপনজনরাও তাদের আশ্রয় দেয়নি।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনে অংশ নেয়া প্রতিটি ব্যক্তি একেকজন মাস্টারমাইন্ড। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও অবদান যেন হারিয়ে না যায়।
অতীতের সরকারগুলোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে নিহত, আহত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরি হয়নি। ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালও যেন হারিয়ে না যায়।
তিনি জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস সামনে আনার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা থাকলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকাই নেই। তিনি বলেন, “আমরা বলছি, এত লক্ষ শহীদ। তাহলে সেই লক্ষ মানুষের নাম-পরিচয় রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না কেন? এটি সরকারের দায়িত্ব। এতগুলো সরকার এল-গেল, সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবি করেছে, কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেনি। শহীদদের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে, তাদের পরিবারের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে সঠিক ইতিহাস রচনার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও অঙ্গীকারের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট। তার অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে এবং বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর অনেকেই আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। আগে যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এখন অনেকে সেটি বেমালুম ভুলে গেছে। তার বিপরীত ন্যারেটিভ ও বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। জনগণের অভিপ্রায়ের আলোকে গণভোট হলেও সরকার এখন তা মানতে চাইছে না । তিনি বলেন, তবে এই রায় তাদের (সরকার) অবশ্যই মানতে হবে। জনগণ গণভোটে যে রায় দিয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
জামায়াত আমীর অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা ও হামলার বিচারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গতি থাকলেও বর্তমান সরকারের সময়ে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। জুলাইকে ভুলিয়ে দেয়ার নিরন্তর সংগ্রাম শুরু হয়েছে। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব পরিকল্পনা তছনছ করে দেওয়া হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক প্রস্তাব ও প্রলোভন দেখানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার যেন জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত না দেয় যে জুলাই যোদ্ধাদের কারণে তারা (বিএনপি) সরকারে যেতে পেরেছে, সেই যোদ্ধাদের চোখ যেন কেড়ে না নেওয়া হয়। হাত-পা যেন না ভাঙে, রক্ত যেন না ঝরায়। এটি করলে সেটি চরম নিমকহারামি হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআরডির উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এসময় আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।