এয়ারবাসের প্রস্তাব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এয়ারবাস ও বাংলাদেশ বিমানের মধ্যে আলোচনা দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইইউর রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশনসহ জোটটির ২৭টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এসময় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ সফল করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ-ইইউর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ইইউ উত্থাপিত বিভিন্ন নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে এলডিসি মর্যাদা থেকে উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তরণ সফল করতে ইইউ নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায়।
তিনি বলেন, নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার উদ্যোগ শুধু ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ ও বৈষম্যহীন প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সব দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। এতে বাংলাদেশের করদাতারা সর্বোচ্চ সুবিধা পাবেন।
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইইউর সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ বিষয়ে ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট। তাই তাদের সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) এবং ইকোসকের সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ পাওয়া গেছে। এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপিত হবে। সেখানে ভোটের মাধ্যমে অথবা ভোট ছাড়াই বাংলাদেশের অনুরোধ গৃহীত হবে বলে আশা করছি।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।