মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন




শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলবে: জাহেদ উর রহমান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২:৫৩ pm
Prime Minister Sheikh Hasina Wazed প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা Sheikh Hasina Prime Minister Bangladesh প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা Cabinet Secretary মন্ত্রিপরিষদ hasina pm
file pic

শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে আছেন, তত দিন দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের চেষ্টা সরকার প্রতিহত করবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে এরপরও আন্দোলন চলমান থাকা এবং কারও কারও মধ্যে সহিংস আচরণ দেখা যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সহিংস আচরণকারীরা প্রকৃত পোশাক শ্রমিক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা সীমান্তের ওপার থেকে হতে পারে। তবে এর সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সংযোগ রয়েছে বলে সরকার মনে করে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারবে বলে মনে না করলেও দলটির কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ লুটের টাকা দিয়ে কোথাও কোথাও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে সরকার মনে করছে। ডিসেম্বরের পরও যেকোনো সময় দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। এখনও তিনি সেই চেষ্টা করবেন বলে মনে করেন তিনি। শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে আছেন, তত দিন এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে। তবে সরকার তা প্রতিহত করবে।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর কখনো শেখ হাসিনার সময়কার পুলিশের মতো হবে, এমনটা প্রত্যাশিত নয়। আগে যেভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা হয়েছে, বর্তমান সরকার তা চায় না। জনগণের যাতে কম ভোগান্তি হয়, সেভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায় সরকার। আশা করা হচ্ছে, খুব কম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকৃত শ্রমিকরাও আন্দোলনে নেমেছিলেন। কারণ, তাদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। এখন যেহেতু কমিশন গঠন করা হয়েছে, আশা করি শ্রমিকদের বোঝানো সম্ভব হবে। শ্রমিকরা মাঠে না নামলে আন্দোলনের মধ্যে অন্য কেউ প্রবেশের সুযোগ পাবে না।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পাসপোর্টের কোনো প্রশ্ন নেই জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এলপিজির দাম বাড়ায় জনগণের ওপর চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বুঝতে পারছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু মাত্র আড়াই মাসেই ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। দ্বিগুণের বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা ক্রমাগত কমছে।

তিনি বলেন, ভর্তুকি দিতে হলে সরকারকে ঋণ নিতে হবে। আর ঋণ নিলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। তাই অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে আন্দোলন মোকাবিলা করত, বর্তমান সরকার তার চেয়ে অনেক ভালোভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তারপরও দু-একটি জায়গায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কোথায় গুলি চালালে সবচেয়ে কম প্রাণহানির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, সে বিষয়ে পুলিশের চর্চা থাকবে।

পুলিশের গুলির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে উল্লেখ আছে, কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালাতে পারবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তবে সেটি আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে করা অবধারিত ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেখতে হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD