কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে করপোরেট কর হার। এবার এ সুযোগ থাকছে না। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর চাপ-সব মিলে করপোরেট কর হার না বাড়লেও কমছে না। চলতি অর্থবছরের মতো করপোরেট কর হার সাড়ে ২৭ শতাংশই থাকছে। করপোরেট কর হার না বাড়ানো হলেও কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নানা কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবারের জাতীয় বাজেট। নির্বাচনী বছরের বাজেট খুব হিসাব-নিকাশ করে করতে হচ্ছে। যদিও বারবার বলা হয়ে থাকে, নির্বাচনী বাজেট হয়ে থাকে জনতুষ্টির বাজেট বা ছাড়ের বাজেট। তবে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসব কিছু থাকছে না। কারণ হিসেবে খোদ এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফের ঋণের অন্যতম শর্ত রাজস্ব আহরণে সক্ষমতা বাড়ানো।
সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়াতে হবে। সে হিসাবে বড় চাপ পড়তে যাচ্ছে ভ্যাট ও আয়কর খাতে। কারণ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হলে ধীরে ধীরে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের অন্যতম ভরসা আয়কর ও ভ্যাট। তাই এখনি বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে। সেই হিসাবে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী বাজেটে কর হার না বাড়লেও করের আওতা বাড়ানোর চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সম্প্রতি আইএমএফের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকেও এনবিআর কর্মকর্তারা কর হার না বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন। তবে কমানোর বিষয়টিও নাকচ করেছেন কর্মকর্তারা।
করপোরেট কর হারের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আসলে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরটা এনবিআরের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। কারণ অর্থনৈতিক এই পরিস্থিতিতে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। এ ছাড়া রাজস্ব বাড়াতে আইএমএফের বাড়তি চাপ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে অনেকটা কৌশলী। তবে আগামী বাজেটে কর হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর চিন্তা চলছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পাবলিকলি ট্রেডেড বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার বর্তমানে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে। আর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির কর হার বর্তমানে সাড়ে ২৭ শতাংশ, একক ব্যক্তির কোম্পানির কর হার সাড়ে ২২ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যক্তিসংঘ ও কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা এবং অন্যান্য করযোগ্য সত্তার কর হার সাড়ে ২৭ শতাংশ। এসব কর হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আর আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাড়তি এই রাজস্ব আদায় করতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রায় অসম্ভব। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের দশ মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাকি দুই মাসে ঘাটতি পূরণ করে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রায় অসম্ভব বলেও মনে করেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বছর শেষে ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।