শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন




কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম

সেপ্টেম্বরে ঢাকায় শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ বাণিজ্য ফোরাম

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩ ৩:৫৮ pm
Commonwealth Trade and Investment Forum Commonwealth কমনওয়েলথ কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম
file pic

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৩-১৪ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠানটি হবে যেখানে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশ থেকে বড় ধরনের অংশগ্রহণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজের সম্পর্কে অন্য দেশকে অবহিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয় কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল (সিডব্লিউইআইসি)। এই ফোরামের আয়োজক সিডব্লিউইআইসি। আয়োজনে অংশীদার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেডআই ফাউন্ডেশন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডসের সদস্য এবং সিডব্লিউইআইসি-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান লর্ড সোয়ার কেসিএমজি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, এমপি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া এবং বাংলাদেশে সিডব্লিউইআইসি-এর কৌশলগত উপদেষ্টা জিল্লুর হোসেন এমবিই।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অনেক দেশ থেকে অংশগ্রহণের জন্য নিশ্চয়তা পেয়েছি। আফ্রিকান দেশ যেমন নাইজেরিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও ঘানা থেকে প্রতিনিধি দল আসবে। যুক্তরাজ্য থেকে আমরা বড় একটি প্রতিনিধি দল আশা করছি। তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুঁজে দেখা। এটি সবার জন্য উইন-উইন পরিস্থিতি তৈরি হবে। সালমান এফ রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই কমনওয়েলথ সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার স্বপ্ন নিয়ে কমনওয়েলথে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ যখন কমনওয়েলথে যোগদান করে, তখন দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি এবং বিধ্বস্ত অবকাঠামো নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে। এই জাতির কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ছিল কমনওয়েলথ সদস্যদের মতো উন্নয়ন অংশীদারদের সমর্থন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে কমনওয়েলথ ভুক্ত বেশ কয়েটি দেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। বাংলাদেশের এফবিবিসিসিআই গত বছর বড় একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপান, চীন ও ভারতের জন্য বিশেষ জোন তৈরি করা হচ্ছে। রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কানেক্টিভিটির কারণে নেপাল, ভুটান ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের বাজার আগের থেকে দ্বিগুণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, কমনওয়েলথকে অবশ্যই এলডিসি, এলএলডিসি, এসআইডিএস এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলির চ্যলেঞ্জ ও ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে জিএসপি সম্পর্কিত বাণিজ্যিক সুবিধার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বেসরকারি পুঁজির প্রবাহ এবং সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহজ অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রগুলিতে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের অফিসিয়াল অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অপূর্ব সুযোগ। এটা আমাদের অর্জিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার স্বীকৃতিস্বরূপ, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি। দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা হিসাবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই ফোরাম যে সুযোগগুলি তৈরি হবে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে সচেষ্ট থাকবে। বাংলাদেশে ব্যবসা করার সুযোগ অন্বেষণ করতে আগ্রহী এমন বিনিয়োগকারীদের আমরা নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ পরিষেবা পৌঁছে দেব।

যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডসের সদস্য এবং কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান লর্ড সোয়ার বলেন, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য কমনওয়েলথ ৫৬টি দেশের অপার সম্ভাবনা অন্বেষণ ও তা কাজে লাগানোর একটি বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জিল্লুর হোসেন বলেন, কমনওয়েলথ সদস্যদের রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা এ বছর ঢাকায় কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে যোগ দেবেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত বিষয়সমূহ তুলে ধরার জন্য এটি একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হবে। এ ফোরমের লক্ষ্য হলো অংশীদারত্ব বৃদ্ধি ও মজবুত করা, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশের জন্য টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনেতিক উন্নয়নের পথ অন্বেষণ করা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ফোরামটি কমনওয়েলথের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র যেমন যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, মাল্টা ইত্যাদিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আগে কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও মাল্টাসহ অন্যান্য দেশে হয়েছে। কমনওয়েলথ হলো ৫৬টি দেশ নিয়ে গঠিত একটি সংস্থা, যা অভিন্ন মূল্যবোধ দ্বারা একত্রিত। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ এখানে বাস করে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ৩৪তম সদস্য হিসেবে কমনওয়েলথ যোগ দেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD