বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন




শেষ মুহূর্তে আইএমও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩ ৯:০৮ pm
International Maritime Organization imo আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও
file pic

হেরে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল শুরু থেকেই। তারপরও বাংলাদেশ প্রার্থিতার প্রশ্নে ছিল অনড়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব পদে এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিল ঢাকা। প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল এ খাতের বেশ পরিচিত মুখ মঈন উদ্দিন আহমদকে। নির্বাচনে জিততে প্রার্থীকে ৩৭টি দেশে সশরীরে পাঠানোর জন্য কোনো রকম কাপর্ণ্য ছাড়াই মোটা অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

তাছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর উদ্যোগে এবং ঢাকা ও লন্ডনে ব্যয়বহুল প্রচারণা চালানোর কৌশল নেয়া হয়েছিল। যদিও ডলার সংকট তথা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় কোটি টাকার এমন নির্বাচনে অংশ নেয়া তথা প্রার্থীকে দেশে দেশে পাঠিয়ে প্রচারণা চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় তথা সরকার।

সব সমালোচনাকে পেছনে ঠেলে মন্ত্রী-সচিবরা প্রচারণায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। কিন্তু না, কষ্টকর এই প্রচারণা এবং ব্যয় হওয়া অর্থকড়ি- সবই জলে গেছে! একেবারে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ আইএমও মহাসচিব পদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

কিন্তু কেন এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা কথা চাউর হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরেও সমালোচনা কম নয়।
বলা হচ্ছে- প্রত্যাহারই যখন করা হবে, তাহলে তা আরও আগে করলেই ভালো হতো। তাতে অন্তত জনগণের অর্থটা সাশ্রয় হতো! কর্মকর্তারা এ-ও বলছেন, জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা আইএমও’র মহাসচিব পদে অতীতে বাংলাদেশ থেকে কেউ প্রার্থী হননি। এ পদে জয়ী হলে নিশ্চিতভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি বাড়তো।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে এবং সম্মানজনকভাবে হেরে গেলেও নৌ-চলাচলে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দেশের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের স্টেইক বাড়তো। জয়ী হলে অবশ্যই বিশ্ব-দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান পোক্ত হতো। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল রাতে মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য যে ভোট দরকার তা ছিল না বিধায় আমরা তুরস্ককে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

১৮ই জুলাই লন্ডনস্থ আইএমও সদর দপ্তরে ওই নির্বাচন হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নির্বাচন চলছিল। আইএমও’র বর্তমান মহাসচিব কোরিয়ার কিটাক লিমের মেয়াদ আগামী ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হবে। পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ৬টি দেশ ছিল। যার মধ্যে সুত হায়রি আকা (তুরস্ক), আর্সেনিও আন্তোনিও ডোমিঙ্গুয়েজ ভেলাস্কো (পানামা), ডা. ক্লিওপেট্রা ডুম্বিয়া-হেনরি (ডোমিনিকা), ন্যান্সি কারিগিথু (কেনিয়া), মিন্না কিভিমাকি (ফিনল্যান্ড) এবং চীনের ঝাং জিয়াওজি (চিয়াওজি) ছিলেন।

স্মরণ করা যায়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিষয়ক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে বৈশ্বিক সমর্থন চেয়ে গত ১৮ই মে ঢাকায় কূটনৈতিক ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, এমপি। ব্রিফিংয়ে ঢাকাস্থ ২৪টি দেশের রাষ্ট্রদূত বা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কূটনৈতিক ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আইএমও মহাসচিব পদে নির্বাচন করছে।

আইএমও’র কাউন্সিলে ৪০ জন সদস্য রয়েছেন। তারাই ভোটার। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেছিলেন- আমাদের প্রার্থী ক্যাপ্টেন মঈন আহমেদ খুবই যোগ্য। আইএমও কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে ঢাকায় যাদের দূতাবাস আছে, তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আমরা ভোট চেয়েছি। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা খুবই আশাবাদী। তারও আগে গত ডিসেম্বরে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ‘ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিং সামিট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ২০২৪-২০২৭ মেয়াদে আইএমও মহাসচিব পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেছিলেন।

সেই অনুষ্ঠানে আইএমও’তে বাংলাদেশের প্রার্থী স্পেশাল এনভয় ক্যাপ্টেন মঈন উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রার্থী মঈন আহমদ এখন আন্তর্জাতিক মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের (আইএমএসও) মহাপরিচালক। তিনি কর্মসূত্রে বর্তমানে লন্ডনেই থাকেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত স্যাটেলাইটগুলোর যোগাযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএমএসও কাজ করে। এর আগে মঈন আহমদ ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক (কারিগরি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইএমও কী

জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সম্মেলনের চুক্তি অনুসারে ১৯৪৮ সালে আইএমও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নৌনিরাপত্তা, নৌবাণিজ্য এবং নৌ চলাচলে পরিবেশদূষণ রোধে কর্মপন্থা গ্রহণের সুপারিশ করে থাকে সংস্থাটি। বর্তমানে আইএমওর সদস্যসংখ্যা ১৭৮। এর মধ্যে কাউন্সিল সদস্যদেশ ৪০। মূলত এই ৪০ দেশ মহাসচিব পদে নির্বাচনে ভোট দিতে পারে। বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে আইএমওর সদস্য হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD