শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন




এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি

যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটে বড় বিপর্যয় চট্টগ্রামে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৪ ৬:৫০ pm
Bay Terminal এলসি LNG এলএনজি liquid Liquefied natural gaslng terminal bangladesh Ship Laffan জ্বালানি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি স্পট মার্কেট খোলাবাজার আমদানি টার্মিনাল পায়রা lng জাহাজ exports Mongla Port Authority intermodal shipping Container freight transport ship rail truck unloading reloading cargo import trade Export Promotion Bureau EPB Export Market Launch Day Trip Ship Bangladesh Inland Water Transport Corporation BIWTC BIWTC Ferry transport ship watercraft amphibious vehicle passengers cargo water bus water taxi Ferry Ghat আমদানি রপ্তানি ডিপো কন্টেইনার জাহাজ নোঙ্গর শিপিং এজেন্ট ওশান ট্রেড মংলা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং নাব্য সংকট হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর আমদানি বাণিজ্য বাণিজ্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন বিআইডব্লিউটিসি ফেরি ফেরী ঘাট সার্ভিস গাড়ি বিআইডব্লিউটিসি খেয়া নৌরুট লঞ্চ চলাচল ফেরি লঞ্চ মোটরনৌযান যানবাহন বাহন ভাসমান নৌযান মোংলা বন্দর জেটি
file pic

গ্যাস সংকটে বড় বিপর্যয়ের মুখে চট্টগ্রাম। আবাসিক থেকে বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস সংকটে হাহাকার তৈরি হয়। রান্না করতে না পারায় অনেকে দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে দিন পার করছেন। হোটেলেও দীর্ঘ লাইন ধরে লোকজনকে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেক হোটেলে খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় লোকজনকে খালি হাতে ফিরতে হয়। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে রয়েছে। রাস্তায় সিএনজিচালিত গাড়ি না থাকায় নগরীর মোড়ে মোড়ে শত শত মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) বিপণন বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক (দক্ষিণ) প্রকৌশলী অনুপম দত্ত জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে। যার ফলে চট্টগ্রামে এর প্রভাব পড়েছে। দ্রুত ত্রুটি সারিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আশাকরি দ্রুত সমাধান হবে।

শুক্রবার দুপুরে নগরের বাদুরতলা আরাকান হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা গৃহিণী জেসমিন আকতার বলেন, এমনিতেই গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে রান্না করতে অনেক কষ্ট হয়। দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না তাই মধ্য রাতে রান্নার কাজ সারতে হয়। কিন্তু এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই বন্ধ রয়েছে। সকালে হোটেল থেকে চা-নাস্তা কিনে খেতে হয়েছে। দুপুরে হোটেলে লাইন ধরে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে।’

একই কথা জানালেন সোসাইটির আরেক বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুপুরে রান্না না হওয়ায় জুমার নামাজের পর হোটেল থেকে খাবার কিনতে গিয়ে দেখি খাবার শেষ। কয়েকটি হোটেল ঘুরে একটি হোটেল থেকে ভাত আর সবজি পেয়েছি।’

এদিকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল এক প্রকার বন্ধ রয়েছে নগরীতে। কিছু সংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করলেও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সেখানে কথা হয় অটোরিকশা চালক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। কখন গ্যাস পাওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছেন না।’

কেজিডিসিএল’র সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল ছাড়া বিকল্প কোনো উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ না রাখায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাসমান দুটি টার্মিনাল থেকে পাওয়া প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিয়মিত গ্রাহকদের সরবরাহ করে থাকে কেজিডিসিএল। কিন্তু সেই উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ না পাওয়ায় এক ধরনের বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে চট্টগ্রাবাসীকে।

গত অক্টোবরে একটি টার্মিনাল জরুরি সংস্কারের জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যার ফলে গত তিনমাসেরও বেশিসময় ধরে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেক ছিল। ১৭ জানুয়ারি সেটি ফেরত এসেছে। সেটি পুনঃস্থাপন করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

কেজিডিসিএল’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয় শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানিকে। এ তিনটি খাতে গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। আর ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে সরবরাহ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে গৃহস্থালির পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প কারখানা, সিএনজি স্টেশন, হোটেল-রেস্টুরেন্টেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে। [সমকাল]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD