শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন




বন্দরকে ঘিরে চলমান কার্যক্রমে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে: আমীর খসরু

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:০৭ pm
Khosru Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিAmir Khasru Mahmud Chowdhury আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী Amir Khasru Mahmud Chowdhury আমির খসরু
file pic

বন্দরকে ঘিরে চলমান বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যক্রমের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর যারা অপারেট করে, যারা স্টেকহোল্ডার- তারা যার যার মতো করে নিজস্ব বিকল্পভাবের সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যে এক্টিভিটিসগুলো হচ্ছে, এগুলো পণ্যের দাম বাড়ার কারণ। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। দাম বাড়ারে পেছনে অনেক কারণ আছে। যেসব কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ছাড়াও শিল্প-কারখানারসহ সার্বিকভাবে যেসব মালামাল আসছে, সব ক্ষেত্রে এটার প্রতিফলন ঘটছে। এটা দেশের মনুষকে কষ্ট দিচ্ছে। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন, শ্রমিক-কর্মচারীসহ সব স্টেকহোল্ডাদের নিয়ে বসেছি। পুঙ্খানু-পুঙ্খানুভাবে আলোচনা করছি, বিবেচনা করছি।

শুক্রবার নগরীর মেহেদীবাগের বাসভবনে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমরা রিভিউ করবো। কারা এগুলো বাস্তবায়ন করেছে, কারা করে নাই- তারওপর ভিত্তি করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

মন্ত্রী বলেন, বন্দরের কারণে শুধু নিত্যপণ্যই নয়, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্টের কস্টও (মূল্যও) বাড়ছে। অনেকগুলো বিষয়ে আমরা সমাধান দিতে পেরেছি। অনেকগুলো বিষয়ে সমাধান দিতে আমাদের সময় লাগবে। কারণ, এগুলোতে ইন্টার মিনিস্ট্রির বিষয় রয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব সহসা চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে। সাথে সাথে যেসব পণ্য আটকে আছে, এগুলো দ্রুত খালাস হবে। ফলে এগুলোর ওপর যে কস্ট আছে, সেটা কমে আসবে। এখন রোজার যে পণ্যগুলো আছে, এগুলোর ডেলিভারি খুব স্লো। এগুলো যাতে তাড়াতাড়ি ডেলিভারি দেওয়া যায় সেজন্য আমি চেষ্টা করছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সার্বিকভাবে বন্দরে অনেক সমস্যা আছে। প্রত্যেকটা স্টেকহোল্ডারের সাথে বসতে হবে। কিছু কিছু সমাধান হয়েছে। আর কিছু বিষয়ে আলাপ-আলোচনার বিষয় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যার কারণে দেশের অর্থনীতির যে সমস্যা হচ্ছে, এটার কারণে কস্ট অব প্রোডাক্ট (পণ্যমূল্য) বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। অনেকগুলো কারণের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম একটা বিশেষ কারণ। আমরা এসব সমস্যার সমাধান দিতে চাইবো।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন, শ্রমিক-কর্মচারীসহ সব স্টেকহোল্ডাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে অপসারণে দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর মেদেীবাগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় তার সঙ্গে বন্দরের জটিলতা নিরসনে আয়োজিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে আমরা বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করছি। তাকে কোনোভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা যাবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা তাকে মানেন না। তিনি কারো সাথে কো-অপারেশন করেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, সেই আন্দোলনে এখনও আছি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বন্দরের সব বিষয়ে অবহিত রয়েছেন। আমরা এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই।

প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইব্রাহিম খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। করা হয়েছিল মামলাও। তবে এই মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ এখন শুরু হবে

এখন বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।

আজ বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে। তবে এগুলো তো এক কথায় বলা যাবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান।

অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রামে আসার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভালো লাগছে। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি। একটি নির্বাচিত সংসদ, সরকার হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সকলে মিলে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

চট্টগ্রামে পৌঁছার পর চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন তিনি। এরপর নগরীতে জুমার নামাজ আদায়ের পর মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রামের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় অর্থমন্ত্রী। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে মন্ত্রীর বাসভবন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD