বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন




জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন: কৃষকের সার পানি সমস্যার সমাধান চান ডিসিরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ৭:৩৪ am
ফসলের মাঠ ফসল মাঠ Climate Change Conference COP27 সম্মেলন Conference জলবায়ু climate cop কপ জলবায়ু Boro paddy farmers ইরিগেশন Irrigation Rice ধান আমন ধান কৃষক agri সেচ মৌসুম ডিজেল climate jamuna flood Water level Of Jamuna jamuna-river প্লাবন flood flood Disaster Flood Safety adb Flood Flooding overflow water rain snow coastal storms storm surges dangerous floodwaters floodwater বন্যা কবলিত পানি প্রবাহ প্রবাহিত পানি জোয়ার ভাটা কৃষি জোয়ার-ভাটা দুর্যোগ বন্যা বন্যার্ত পানি বন্যা-Kurigram ফসল Flash floods threaten haor crops in Netrokona, farmers fear heavy losses Flash flood haor crops Netrokona farmer
file pic

সার ও পানি সমস্যার সমাধান চেয়েছেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)। ডিসি সম্মেলনে তারা বলেছেন, উৎপাদন করতে গিয়ে পানি ও সার পেতে বেগ পেতে হয় কৃষকদের। নিয়োগকৃত নির্দিষ্ট ডিলার না থাকাসহ বিক্রয়কর্মীরা ইচ্ছামাফিক সারের দাম নির্ধারণ করায় খেসারত দিতে হয় কৃষকদের। মাঠ পর্যায়ে কৃষক বিপদে পড়েন। এছাড়া সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল ও বিদ্যুৎ পান না তারা। এসব সমস্যা সমাধান করা না হলে কৃষক পেশা পরিবর্তন করতে পারেন। এর ফলে দেখা দেবে অনাকাঙ্ক্ষিত খাদ্য সংকট। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সোমবার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ডিসিরা তাদের মাঠ পর্যায়ের মতামত তুলে ধরে সমাধান চান। ডিসিদের উত্থাপিত বিষয়গুলো সরকার নজরদারি করছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, শিগ্গিরই সারের ডিলার নিয়োগ হবে। পানি সংকটও সমাধানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের সর্বনিম্ন সাড়ে ৭ হাজার টাকা হারে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী এ সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম চলবে বলে জানান মন্ত্রী।

আলুর বাম্পার ফলন সত্ত্বেও সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসকরা। তারা এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আলুর বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মেলনে কুরবানির পশুর বাজার পরিস্থিতিও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশে কুরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে সংকটের আশঙ্কাও নেই।

সম্মেলনে ডিসিরা আরও বলেন, দেশে সব জেলায় পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে। কোনো ধরনের নীতিমালা, আইনকানুন ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। এসব স্পটের মালিকরা সরকারকে কোনো কর দিচ্ছেন না। খাবারও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্নমানের। ফলে ভোক্তরা প্রতারিত হচ্ছেন। কারণ, পর্যটন স্পটে খাবারের উচ্চমূল্য রাখা হয়। মানুষ পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে একরকম জিম্মি হয়ে পড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে নীতিমালা ও বিধিবিধান প্রণয়নের পরামর্শ দেন ডিসিরা।

জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলন থেকে বেরিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ডিসেম্বর মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ বিমানকে ঢেলে সাজাতে আরও ১৪টি বোয়িং-৭ কেনার চুক্তি সই করা হয়েছে এবং আরও কিছু বিমান লিজ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়াসহ পরিত্যক্ত আটটি বিমানবন্দর নতুন করে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘মনপুরা’ স্পট হিসাবে ভালো, সে কথা ডিসিরা বলেছেন। সেটাও দেখা হচ্ছে। বগুড়ায় বিমানবন্দরের পাশাপাশি ফ্লাইং একাডেমি করার সরকারি পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

সম্মেলনে ডিসিরা বলেন, কৃষক পাটের প্রকৃত ন্যায্যমূল্য পান না। তারা মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং ফড়িয়াদের কাছে জিম্মি। তাছাড়া পাটের উৎপাদনও আগের চেয়ে কমে গেছে। মূল্য কম থাকায় কৃষক তা উৎপাদন করতে চান না। বিদেশ থেকে সুতা ও তুলা আমদানি করে কাপড় তৈরি হচ্ছে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে তুলা উৎপাদনে। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষক সরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা বস্ত্র ও পাটকলগুলোর অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত ভবন এবং যন্ত্রপাতি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে সরকার। বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কাগজ, চিনি ও সার কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে ডিসিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে সরকার। আসন্ন কুরবানি ঈদে জবাইকৃত পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য দেশের সব মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় ঈদপরবর্তী ৭ দিন কোনো ট্রাকে কাঁচা চামড়া বহন করা যাবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডিসিরা বলেন, দেশের অধিকাংশ নৌযানের কোনো নিবন্ধন নেই। নিবন্ধন না থাকলে আইন ও বিধি ওইসব যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া নৌঘাটের টার্মিনালে কোনো রেলিং নেই। থাকলেও তা খুবই নিচু। এছাড়া নৌবন্দরের চার পাশের জমি জবরদখল করে ভাড়া দিচ্ছে প্রভাবশালীলা। এসব সমস্যার সমাধান দরকার।

জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ডিসিরা নির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবেন। সরকার যে কোনো ধরনের অনিয়ম বন্ধে আন্তরিক।

ডিসিরা আরও বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি জমিতে প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সরকারি খাল, নদী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডেও জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। সরকারি জমি ভাড়া দিচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান সাধারণ মানুষ। খাল ও নদীর পানিপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে-এমন স্থানে বালু ব্যবসা চলবে না। এসব বন্ধ হওয়া জরুরি।

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সমস্যার কথা শুনেছি। যেখানে যে সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। সরকার এ বছর যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিসিদের সহায়তা দরকার।

ডিসিরা সরকারি ত্রাণের চাল, ধান, গম ও আতপ চাল রাখার গুদাম স্থাপনের পরামর্শ দেন। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, সিলেট ও নাটোর জেলায় গুদাম স্থাপনে সরকার একমত হয়েছে। বজ পাতে মৃত্যু কমাতে সরকার কৃষক শেলটার স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। ডিসিরা বলেছেন, ১০ কেজির সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে প্যাকেটজাত খাবার বিতরণ করা প্রয়োজন। ডেউটিন তিন বান্ডিলের পরিবর্তে ৬ বান্ডিল বিতরণের পরামর্শ দেন ডিসিরা। ডিসিরা আরও বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ১৭ বার ভূমিকম্প হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরীর ভূমিকম্পরোধক স্থায়ী পরিকল্পনা থাকা জরুরি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ডিসিদের সহায়তা এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দেন।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD