নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজ বাসভবন কালিঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি ভোটে হারিনি, পদত্যাগ কেন করব?’
তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী বলেন, ‘এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনো ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব। আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?’ এসআইআর হলো ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন। যা নির্বাচনের আগে করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অনেক ভোটার তালিকা থেকে বাদ যান বলে অভিযোগ আছে।
তৃণমূলের লড়াই বিজেপির সঙ্গে ছিল না বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন মমতা। বলেন, তাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। এই ভোটের ভিলেন বা খলনায়ক মূখ্য নির্বাচন কমিশনার। তৃণমূলের ১০০ আসন লুট করা হয়েছে। সব তথ্য প্রমাণ রেখে দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ কাকে করবেন বুঝতে পারছেন না। কারণ, সবাই বিক্রি হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মততার সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও ‘ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘দিল্লি থেকে কায়দা করেছে। আমি আগেই বলেছিলাম, ওরা কিন্তু প্রথমে বিজেপির ট্যালি দিয়ে শুরু করবে। ভোটের কাউন্টিং হয় ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড। প্রথম ২-৩ রাউন্ড ওরা গণনা করেছে প্ল্যান করে, যাতে ছেলেদের মনোবল ভেঙে যায়। বিজেপির গুন্ডারা সাহস পায়।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে মমতা বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।’ ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও নেতা রাহুল গান্ধী ফোন করেছিলেন বলে জানান মমতা।