চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অনুষ্ঠিত ৭টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠকে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠকে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব, ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সে (আইবিসিএ) বাংলাদেশের যোগদান এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাপান সরকার ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি উত্থাপন করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এছাড়া আইবিসিএতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবলিশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) একটি বৈশ্বিক জোট, যা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে টাইগার, লায়ন, লেপার্ড, স্নো লেপার্ড, পিউমা, জাগুয়ার ও চিতা; এই সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘভুক্ত ২৪টি দেশ এ জোটের সদস্য।
এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর বিগ ক্যাটের আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ যেহেতু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি, তাই সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিবেচনায় এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে, ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খসড়া জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
উল্লেখ্য, বিশ্বে নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ এ চুক্তির পক্ষভুক্ত।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে এবং জিসিএম ধারণার অন্যতম প্রবর্তকও বাংলাদেশ। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বাংলাদেশকে ‘জিসিএম চ্যাম্পিয়ন কান্ট্রি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
জিসিএমের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে আইওএমের সহযোগিতায় ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (জিসিএম-ন্যাপ) প্রণয়ন করা হয়, যা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।