বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন




তাপমাত্রা নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ ১০:২২ am
HEATWAVE temperature তাপপ্রবাহ গরম আবহাওয়া তাপমাত্রা পূর্বাভাস কুয়াশা লঘুচাপ বঙ্গোপসাগর সেলসিয়াস tem Weather আবহাওয়া Rain বৃষ্টি Cold wave শৈত্যপ্রবাহ শৈত্য প্রবাহ Climate Change Conference COP27 winter season temperate climate polar autumn coldest Cold পৌষ মাঘ শীতকাল তাপমাত্রা ঋতু হিমেল হাওয়া হাড় কাঁপুনি সর্দিজ্বর ঠান্ডা Weather আবহাওয়া Weather আবহাওয়া Rain বৃষ্টি degree Celsius
file pic

জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে। এ সময় দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জুনের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষাকাল সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।

তিনি জানান, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া মাসজুড়ে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুন মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ৬০০ থেকে ৬৩০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৭০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, খুলনা বিভাগে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মতো নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা ও রংপুরের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে।

মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি; এটি বর্তমানে মিয়ানমার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারাদেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

মে মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ১৩ মে সেখানে একদিনে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মাসজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।

অন্যদিকে মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।

নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD