বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন




ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ ৫:৫৭ pm
World Bank WB বিশ্বব্যাংক বিশ্ব ব্যাংক
file pic

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বাজারদরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

বুধবার বিশ্বব্যাংকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটির বোর্ড সভায় এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাংক খাতই হলো পূর্বশর্ত।

আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প–২–এর আওতায় এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বিমার ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রকল্পটি ব্যাংক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরিতেও সহায়তা করবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এ প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি করা হবে এবং ডিপোজিট প্রটেকশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি অ্যাসিস্ট্যান্স) কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার কারণে দেশের ব্যাংক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। একইভাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত (ক্যাপিটাল–টু–রিস্ক–ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও) ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। কিন্তু মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।

জ্যঁ পেম আরও বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ, ব্যবস্থা ও সুরক্ষার কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং আর্থিক খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা ও খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD