বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন




যেভাবে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৫:৫৪ pm
জেলখানা arrested গ্রেফতার custody Arrest suspected observed crime charged গ্রেপ্তার আটক ধরপাকড় পুলিশ অভিযান মামলা আসামি কারাগার আদালত
file pic

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের আগে কয়েক দিন ধরে তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পর ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই ডেভিড ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডেভিড ইমনের সঙ্গে ছিলেন তার তিন সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীম। তাঁদের আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। পুলিশ জানায়, ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যশোরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও চেকপোস্ট বসানো হয়। গভীর রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি চেকপোস্টে সন্দেহভাজন চারজনকে থামিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তার তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক অন্যদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করে ফোন করার অভিযোগ ওঠে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে।

ওই সময় নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি ওই ব্যবসায়ীকে বলেছিলেন, ‘আমি কে, তা পুলিশের কাছ থেকেই জেনে নিন।’ এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে এবং তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম নগরের অপরাধজগতের আলোচিত নাম ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের নথি ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে এনে সংশ্লিষ্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাঁর সঙ্গে আটক তিন সহযোগীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে অবশেষে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসা চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। এরপর যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল বুধবার গভীর রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক নাজিমুল হক।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছিল। গত দুই সপ্তাহে তাঁকে ধরতে ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানও পরিচালিত হয়েছিল। এছাড়া তাঁর বাহিনীর একাধিক সহযোগী গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা নাজিমুল হক বলেন, “সন্ত্রাসমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তাঁকে চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্য সহযোগীরাও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। তাঁদেরও অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তাঁকে ধরতে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, ডেভিড ইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্রের জোগান, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য মিলতে পারে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু ডেভিড ইমনই নন, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পলাতক ও সক্রিয় সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD