বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন




দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে: জামায়াত আমির

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫৯ pm
Bangladesh Jamaat-e-Islami amir dr Shafiqur rahman জামায়াত ইসলামী আমির ডা শফিকুর রহমান Jammat Amir amir
file pic

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। সরকারি-বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন—সব জায়গায় এখন নির্লজ্জ দলীয়করণ চলছে। এটি কি নতুন ধরনের কোটা নয়? যোগ্য ও সৎ মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে। যেন একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘যারা জীবন দিয়েছেন, তারা কি শুধু একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন? তারা চেয়েছিলেন রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, সিস্টেমের (ব্যবস্থা) পরিবর্তন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, দেশ আবার সেই পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে যখন অনেক রাজনৈতিক দল এটিকে কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলে দূরত্ব বজায় রাখে, তখন জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনও এর কৃতিত্ব দাবি করেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলিনি আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) আমরা। কিংবা আমাদের এত শহীদ হয়েছে বলে কোনো কৃতিত্ব দাবি করিনি। আমরা নির্বাচনও দাবি করিনি। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৬ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজি শুরু হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি।

শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সহায়তার চেয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এক শহীদের বাবা তাদের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ফিরিয়ে দিয়ে সেটি আরও অসচ্ছল শহীদ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এই মানসিকতা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জন্য শিক্ষা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক মানুষ ও শ্রমজীবী। তাদের সরকারি চাকরির কোটা পাওয়ার কোনো স্বার্থ ছিল না। তারা রাস্তায় নেমেছিলেন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিচার চাই, প্রতিশোধ চাই না। শহীদদের হত্যার বিচার একদিন না একদিন অবশ্যই এই বাংলার মাটিতে হবে। যত বছরই লাগুক, এ বিচার হবেই। এই দাবি থেকে আমরা কখনো সরে আসব না।’

তিনি বলেন, গণভোট ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি থেকেও জামায়াতে ইসলামী সরে আসবে না। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেননি, বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। এখনও সময় আছে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে ফিরে আসুন।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আমরা কাউকে ভয় করি না। আপসের অনেক প্রস্তাব ও নানা ধরনের লোভ দেখানো হয়েছে, আমরা সবই প্রত্যাখ্যান করেছি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ‘জীবন দিতে হলেও জুলাইকে কাউকে দিয়ে দেব না। জুলাইয়ের চেতনা আমাদের অন্তরে ধারণ করে রাখবো। শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করবো।’

অনুষ্ঠানে তিনি শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং তাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD