মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন




বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত নিয়ে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৫৫ am
Tarique Rahman Tarique Rahman তারেক রহমান Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি tarek-rahman
file pic

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজতে রাতদিন কাজ করছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এজন্য নানামুখী বৈঠক ও পর্যালোচনা অব্যাহত আছে। কীভাবে দেশে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে জ্বালানি বিভাগ। পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই মনিটরিং করছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিদ্যমান সংকটের অন্যতম কারণ চারটি। এগুলো হলো : দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানের ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ খাত এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়া। তবে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বড় দায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের। যারা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি ডুবিয়ে দিয়েছে। লোডশেডিং কমিয়ে উৎপাদন বাড়ালেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরকে একেবারে বিদেশনির্ভর করে ফেলে। এছাড়া পছন্দের লোকজনকে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর অনুমতি দিয়ে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠানকে এই ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে গিয়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হতে বসেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরকে পুঁজি করে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীত করা হয়। যার ভয়াবহ ক্ষত এখন বেরিয়ে আসছে। আর খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। এ সংকট মোকাবিলা করতে বিএনপি সরকারকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন এবং ৩টি এলএনজি টার্মিনাল বসিয়ে দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। এতে এ সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৫০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করতে চায় সরকার। বর্তমান গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এ হিসাবে ৪ বছরে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে দ্বিগুণ। একই সঙ্গে কয়লার উৎপাদন বাড়াতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে বলেন, বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা হবে।

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। তবে এ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুলনীতি ও অনিয়মের ফসল। তিনি বলেন, এ সমস্যা হঠাৎ তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি ছাড়াও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের উন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সাধারণ উদ্যোক্তা তৈরি করতে প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় বিদ্যুৎ কেনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাব আসতে পারে। এছাড়া তিন বছরের মধ্যে পায়রা, বড়পুকুরিয়া ও মাতারবাড়ীতে কমপক্ষে তিনটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বসিয়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতের ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী। বিশেষ করে কোনোরকম যাচাই-বাছাই না করে বিশেষ আইনে (২০১০) বেসরকারি খাতে যেখানে-সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো আউটপুট পাচ্ছে না। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সোমবার বলেছেন, জ্বালানি খাতের ক্রমাগত চাহিদা পূরণে সরকার সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাইমারি জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD