রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন




১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে: ডা. শফিকুর

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১১ am
Bangladesh Jamaat-e-Islami amir dr Shafiqur rahman জামায়াত ইসলামী আমির ডা শফিকুর রহমান
file pic

দাবি আদায়ে বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে জানিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের দাবিগুলো বর্তমানে আট দফায় রয়েছে। প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব দাবি নয় দফা কিংবা দশ দফায়ও রূপ নিতে পারে। তবে জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা এক দফায় পরিণত হতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন থামানো যাবে না। দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না এবং বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না।

গত ৫ সেপ্টেম্বরের চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির পর রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হওয়ায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে এবং গত দুই দিনে রাজধানীতে এর কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের হতাশ না হয়ে জনগণের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

বিরোধী দলের এই কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দলীয় দাবি আদায়ের আন্দোলন নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে এবং দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রংপুরের লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া তৈরি হয়েছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের বক্তব্য আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানান। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন ও লড়াই অব্যাহত থাকবে।

রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।

এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)সহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুরের কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের ছয় দাবির সঙ্গে নতুন করে আরও দুটি দাবি যুক্ত হয়েছে। ফলে ১১ দলীয় ঐক্যের বর্তমান কর্মসূচিতে মোট আটটি দাবি স্থান পেয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে জোটের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক দাবিও এবার ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রংপুরের পর আরও দুটি বিভাগীয় শহরকে কেন্দ্র করে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। এর ফলে চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দিকে ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD