শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন




বিশ্ব পানি দিবস আজ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩ ১০:৫৪ am
টিউবওয়েল হস্তচালিত নলকূপ water পানি দিবস Drink hydrosphere food energy পানি জল বারি সলিল নীর বারিমণ্ডল shallow tube well শ্যালো টিউবওয়েল গভীর নলকূপ চাপকল তারাপাম্প ভূগর্ভস্থ পানি অগভীর নলকূপ
file pic

উজানের পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়েছে। আগে শুধুমাত্র উপকূলীয় অঞ্চলের নদীর পানি পানের অযোগ্য ছিল। এখন অনেক এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানিও পান করা যায় না। এসব এলাকার মানুষকে বৃষ্টি ও পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশে সুপেয় পানির সংকট দেখা দেবে কিনা, সেটি এখন ভাবনার বিষয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

মানুষের দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের পদ্ধতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশায় এবার বিশ্ব পানি দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে— দেশে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে কি পরিবর্তন আনা সম্ভব? কারণ, মানুষ শুধু পানি পানই করে না, নিত্যদিনের পরিচ্ছন্নতা কাজেও বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এছাড়া কৃষি এবং শিল্পেও পানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুপেয় পানি যে কেবল মানুষের প্রয়োজন তা-ই নয়, পশুপাখি এবং গাছপালার জন্যও সুপেয় পানির প্রয়োজন রয়েছে। এবারের পানি দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বি দ্য চেঞ্জ’।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ২২ মার্চ ‘বিশ্ব পানি দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিয়ে মানববন্ধন, র‍্যালি ও সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে।

উপকূলে পানির সংকট

পানি নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের যোগাযোগ রয়েছে। এসব এলাকা দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়ছে। মোহনায় যে বিশাল জনগোষ্ঠী বসবাস করেন, তাদের পানির উৎস এই নদীগুলো। কিন্তু ফারাক্কার প্রভাবে উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটেছে। এখন সমুদ্রের নোনা পানি জনবসতির বিপুল এলাকা গ্রাস করছে। ফলে মানুষের ব্যবহার্য পানিরই কেবল সংকট সৃষ্টি হয়নি, সংকট তৈরি হয়েছে কৃষি এবং সেচের পানিরও।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গে লবণাক্ততার কারণে ইতোমধ্যে সুপেয় পানির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিতি ব্যবহারের কারণে নগরের পানির চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদীর দূষণ। দখল ও অপরিকল্পিত প্রকল্পের কারণে নদীগুলোকে আমরা ধ্বংস করে দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘নদীগুলো নানাভাবেই দূষিত হচ্ছে। এ কারণে ইতোমধ্যে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হয়েছে। এটি আগামীতে আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। এজন্য নদীগুলোর প্রাকৃতিকভাবে যত্ন নেওয়া জরুরি।’

উত্তরাঞ্চলে পানির সংকট

ভরা বর্ষায় পদ্মা, যমুনা, করতোয়া, ব্রক্ষ্মপুত্র নদ, তিস্তা নদী, ধরলা নদী, দুধকুমর, ফুলকুমার, সোনাভরি, হলহলিয়া নীলকমল, কালজানী, জালছিড়াসহ উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত নদীতে পানি থাকলেও গ্রীষ্মে এ অঞ্চলে পানির ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। ফলে পানির অভাবে উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলার কৃষকরা কৃষি জমিতে সেচ দিতে পারেন না। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে পানি বিশেষজ্ঞ ইনামুল হক বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে পানির সংকটের মূল কারণ— ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত পদক্ষেপ। ওই অঞ্চলে প্রচুর হাইব্রিড ধান উৎপাদন করা হয়। এতে প্রচুর পানির দরকার হয় সেচের জন্য। নদীর পানি শুধু নয়, ভূ-গর্ভস্থ পানিরও সংকট দেখা দিচ্ছে। আগে যেখানে রবিশস্য রোপণ করা হতো— কোন মাসে কী ধরনের ফসল উৎপাদন করতে হবে, সেই বিন্যাসই করা জরুরি। না হলে পানির এই সংকট সামনে আরও বাড়বে।’

শহরের পানি

শহরাঞ্চলে বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোতে ওয়াশা পানি সরবরাহ করে। এছাড়া জেলা শহর এবং পৌরসভাতেও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জেলা শহরগুলোতে সরবরাহ করা পানি ফুটিয়ে পান না করলেও ঢাকাসহ বড় বড় শহরের পানি ফুটানো ছাড়া পান করা যায় না। দূষণ আর মানহীন পানির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ঢাকায় ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে ওয়াসার পানি পানের উপযোগী করে নেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করেন। পানি পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়— ৫১ শতাংশ গ্রাহক সরবরাহকৃত পানিকে অপরিষ্কার এবং ৪১ শতাংশ গ্রাহক দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন।

ঢাকার পানিতে পানি-বাহিত রোগের নানা জীবাণু থাকে। এজন্য সাধারণ মানুষ এই পানিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপিত পানির এটিএম বুথ বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। দেখা গেছে, এসব এটিএম বুথে মানুষের লম্বা লাইন লেগেই থাকে। এই পরিস্থিতি বলছে— ঢাকা ওয়াসা সরাসরি যে পানি দিচ্ছে, সেই পানি পানে মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘দূষণ কিভাবে হচ্ছে, কিভাবে সুপেয় পানির সংকট হচ্ছে— এখন আমরা সবাইম তা জানি। এখন পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, বর্ষার সময় ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার বন্ধ করে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে ব্যবহার করতে হবে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠে আসবে।’ তিনি জানান, ঢাকার ভেতরের যেসব জলাশয় আছে যেমন- হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেকসহ ছোট বড় পুকুরের পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করেও সেই পানি ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘ মেয়াদের পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর দূষণ বন্ধ করতেই হবে, যদি আমরা সুপেয় পানি চাই। এই নদীগুলোই আসলে শহরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করতে পারে।’




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD