শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন




আইডিআরএ চেয়ারম্যান

বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে দাবি পরিশোধ শুরু আগামী সপ্তাহে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ৯:০৪ pm
বীমা বিমা Insurance Development and Regulatory Authority of Bangladesh IDRA বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ idra
file pic

সংকটে থাকা কয়েকটি বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধ আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। প্রথম ধাপে সাত থেকে আটটি কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুই দিনব্যাপী এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) কর্মশালাটির আয়োজন করেছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, বিমা কোম্পানিগুলোর যেসব সম্পদ রয়েছে, সেগুলো বিক্রি এবং ট্রেজারি বন্ড ও এফডিআরসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে পাওয়া অর্থ গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি কোম্পানির সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ আইডিআরের তদারকিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ওই অর্থ গ্রাহকদের পরিশোধ করা শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘তাদের যত জমি বিক্রি হয়ে লিকুইডেট হতে থাকবে, ব্যাংকে টাকা আসবে, আমরা গ্রাহকদের দিতে থাকবো।’

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে জানিয়ে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকেই আগে অর্থ দেওয়া হবে। এ জন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে গ্রাহকদের দাবির তালিকা সংগ্রহ করে তা নিরীক্ষকদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি কোম্পানির জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক রাখা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। আইডিআরের তদারকিতে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

বকেয়া দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কথা উল্লেখ করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধ না করার বিষয় রয়েছে। এ কারণে আপাতত প্রতিষ্ঠানটির প্রথমবর্ষের নতুন প্রিমিয়াম গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নবায়ন প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, ফারইস্টের ফেনীতে থাকা একটি জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ এবং কিছু বন্ড তরলীকরণ করে পাওয়া অর্থ এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। এসব অর্থ দিয়ে আগামী সপ্তাহে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ শুরু করা হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকা দিয়ে দাবি পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। কোম্পানিটির আরও কয়েকটি জমি বিক্রির জন্য দরপত্র দেওয়া হচ্ছে। সেসব সম্পদ বিক্রি হলে পাওয়া অর্থও পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

ফারইস্টের পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত আরও কয়েকটি কোম্পানির গ্রাহকদেরও পর্যায়ক্রমে দাবি পরিশোধ করা হবে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ফারইস্টের সব সম্পদ ও বন্ড তরলীকরণ করা হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। এই অর্থ দিয়ে বড় একটি অংশের দাবি নিষ্পত্তির পর কোম্পানিটির ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি জানান, কোনো কোম্পানি যদি ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রাহকদের একটি বড় অংশের দাবি পরিশোধ করতে পারে, তাহলে সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। ফারইস্টের মতো বড় কোম্পানির পক্ষেও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাবি পরিশোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রাহকের আস্থা ফেরানোই মূল লক্ষ্য
বিমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোকে আইডিআরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা আইডিআরের মূল দায়িত্ব। যেসব কোম্পানি গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না, তাদের সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমা খাতকে একটি শক্তিশালী আর্থিক খাতে পরিণত করতে হলে প্রথমে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সে লক্ষ্যেই আইডিআরএ একদিকে কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও আর্থিক তথ্য যাচাই করছে, অন্যদিকে বকেয়া দাবি পরিশোধে সরাসরি তদারকি করছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি প্রথম দিন অফিসে এসেই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম, আইডিআরের কোর ম্যান্ডেট অনুযায়ী পলিসিহোল্ডারদের সুবিধা নিশ্চিত করবো। দুই মাসের শেষে অন্তত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পেরেছি, এটা আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে বলছি।’

তিনি জানান, সম্পদ বিক্রি ও নগদায়নের অর্থ যত পর্যায়ক্রমে হাতে আসবে, ততই গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করা হবে। এ কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে চলবে।

আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD