রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন




কৃষিঋণের বিশেষ তহবিল অন্য খাতে বিতরণ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫২ am
ঋণ চুরি টাকা পাচার Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা taka taka money laundering illegal process money generated criminal drug trafficking terrorist funding illegally concealing illicit drug trafficking corruption embezzlement gambling converting legitimate source crime jurisdictions আমদানি ওভার ইনভয়েসিং রপ্তানি আন্ডার-ইনভয়েসিং আমদানি-রপ্তানি অবৈধ জাল অর্থ পাচার জিএফআই মানি লন্ডারিং আর্থিক খাত গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ হুন্ডি অর্থ পাচার taka
file pic

আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্যদের কম সুদে কৃষিঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল নিয়েছিল আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। সেই টাকা কৃষি খাতে বিতরণ না করে উচ্চ সুদে অন্য খাতে বিতরণ করা হয়েছে। এক হাজার কোটি টাকা তহবিলের বিপরীতে কৃষিতে ব্যাংকটির স্থিতি রয়েছে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এই অনিয়ম ধরা পড়েছে। কৃষিঋণের তহবিল থেকে বাকি টাকা কোন খাতে কোথায় বিতরণ করা হয়েছে, জানতে চেয়ে সম্প্রতি আনসার ভিডিপি ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মাঝে কম সুদে কৃষিঋণ দিতে অনেক আগে থেকে অর্থ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকটিকে অর্থ দেয়। পর্যায়ক্রমে তহবিলের আকার বাড়িয়ে ২০২১ সালে এক হাজার কোটি টাকা করা হয়। প্রতিবছর সুদের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে দেয় ব্যাংকটি। মূল টাকা সদস্যদের মাঝে বিতরণ করার কথা। একই ঋণ বিতরণের পর আদায় করে পুনরায় কৃষি খাতে দেওয়ার কথা। যে কারণে বিতরণ স্থিতি মোট তহবিলের চেয়ে বেশি থাকার কথা। অথচ স্থিতি রয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৫ থেকে গত ১৬ আগস্ট আনসার ভিডিপি ব্যাংককে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে– বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে ব্যাংকটির অনুকূলে এক হাজার কোটি টাকা প্রাক অর্থায়ন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আপনাদের মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুসারে এ তহবিল কেবলমাত্র কৃষি ও পল্লীঋণ হিসেবে বিতরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকের ‘স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স’ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘বিবি তহবিলে কৃষি ও পল্লীঋণ’ আউটস্ট্যান্ডিং ব্যালান্স ৩৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত হয়েছে, কৃষি ও পল্লীঋণ থেকে আদায় করা কিস্তি পুনরায় বিনিয়োগ না করে উচ্চ সুদে অন্য খাতে বিতরণ করা হয়েছে। যে কারণে ব্যাংকের ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রত্যেক প্রান্তিকের স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, যে খাতের জন্য প্রাক অর্থায়ন নেওয়া হবে, সেই খাতে বিতরণ করতে হবে। এক খাতের নামে অর্থ নিয়ে আরেক খাতে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শর্তভঙ্গ। শর্তভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লীঋণের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ তিন বছর বাড়ানোর জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্যারান্টির মেয়াদ অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে আনসার ভিডিপি ব্যাংক। আবেদন বিবেচনায় নিয়ে গ্যারান্টির মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ১৫ আগস্ট নির্ধারণ করে সরকার। যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকও তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাংকটি কাজ করে। ব্যাংকটি তপশিলি না হওয়ায় তারা সাধারণ গ্রাহক থেকে আমানত নিতে পারে না। কেবল আনসার সদস্যদের থেকে সঞ্চয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের কাছ থেকে তহবিল নিয়ে ব্যাংকটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংকটিকে অর্থ দিয়ে থাকে। কৃষি ও পল্লী খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২১ সালে ব্যাংকটিকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। প্রাক অর্থায়ন হিসেবে অর্থ দেওয়ার মানে ঋণ বিতরণের আগেই তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য রয়েছেন প্রায় ৬১ লাখ। মাত্র ৮ শতাংশ সুদে সদস্যদের মাঝে কৃষিঋণ দেওয়ার কথা। তুলনামূলক কম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এসব সদস্যদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ও কৃষি খাতের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল কৃষি খাতেই ঋণ বিতরণ করার কথা।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জেল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে দুটি ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দার গত সপ্তাহে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর কেন এমন হয়েছে, জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য গতকাল ও গত শনিবার তাঁকে ফোন করে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD