আন্তর্জাতিক চাপ ও উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্ত পূরণে শুল্ক সুরক্ষা তুলে নিতে হবে। তাই ২০২৬ সালের পর থেকে আর রাজস্ব আদায়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে দেশের কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে জোর দেন তিনি।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীদের রাজস্ব ছাড় প্রস্তাবের জবাবে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সভায় সভাপতিত্বও করেন তিনি।
এ সময় মোটরসাইকেল উৎপাদকরা জানান, ডলারের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুরক্ষায় করছাড়ের দাবি জানান তারা। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনে কর ও ভ্যাট কমানোসহ নানা দাবি জানান এয়ারলাইন্স মালিকরা।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নানা সুবিধা দেওয়ার পরও এ খাতের দেশি কোম্পানিগুলো ভালো করতে পারছে না। চালুর অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংক ঋণ, এভিয়েশন ফিসহ নানা খাতে বকেয়া রেখে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কোম্পানি। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসও দেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বাজেট প্রস্তাবনায় জানায়, বাস, ট্রাক ও লরির রেডিয়াল টায়ার সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে এসব পণ্যে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর ও ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট (এটিভি) নির্ধারিত আছে। সেইসঙ্গে প্রতি কেজি রেডিয়াল টায়ারে ৩ ডলার ৫০ সেন্ট ও নন-রেডিয়াল টায়ারে ৩ ডলার ট্যারিফ বিদ্যমান। এই হার রেডিয়াল ও নন-রেডিয়াল দুই ক্ষেত্রে ২ ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহন সমিতি। এ ছাড়া আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটি আরও জানায়, মোটরযানে ব্যবহৃত ইঞ্জিন আমদানিতে সুনির্দিষ্ট এইচএস কোড নির্ধারণ করে আমদানি শুল্ক ৩ শতাংশ করা ও খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ মটর পার্টস ও টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতি তাদের প্রস্তাবে জানায়, হুইল রিম, হুইল নাট-বোল্ট গাড়ির টায়ারের রিমে ব্যবহৃত জেনুইন হুইল নাট-বোল্ট আমদানির ট্যারিফ ভ্যালু ২ ডলার থেকে কমিয়ে ১ ডলার করার জন্য এবং ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। বাস-ট্রাকে ব্যবহৃত হুইল রিমের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতি কেজি ১ ডলার ৫ সেন্ট। বর্তমানে এ পণ্যে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ আছে প্রতি কেজি ৪ ডলার। এ পণ্যের প্রকৃত ক্রয় মূল্যের ওপর ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ ও ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা) জানায়, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির ওপর সর্বনিম্ন হারে শুল্ক নির্ধারণ, দেশীয় অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অটোমোবাইল পণ্যের ক্ষেত্রে বাস্ত ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান, বাণিজ্যিক গাড়ির ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বামা।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি জানায়, বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট আমদানিতে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ আমদানি শুল্ক বিদ্যমান। এ খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় সংগঠনটি। প্রস্তাবনার যুক্তিতে তারা জানায়, দেশে রোবটিক শিল্প গড়ে তুলতে এর যন্ত্রাংশের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিক্রির আগেই উৎপাদিত পণ্যে অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট (এটিভি) দিতে হলে তা শুধু চ্যালেঞ্জই নয়, বিনিয়োগকৃত পুঁজিও ঝুঁকিতে পড়বে।