প্রযুক্তিতে আরো একধাপ এগিয়ে গেলো চীন। প্রথমবারের মত দেশটির তৈরি একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
চীনা সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, রোববার ভোরে সি৯১৯ এর একটি ফ্লাইট যাত্রীদের নিয়ে সাংহাই থেকে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছে।
এয়ারবাস ও বোয়িং এর একক আধিপত্য ভাঙার আশা নিয়ে কমার্শিয়াল এভিয়েশন কর্পোরেশন অব চায়না (সিওএমএসি) ওই উড়োজাহাজ নির্মাণ করেছে।
যদিও পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে ১৬৪ আসনের উড়োজাহজটির আরো অনেক সংস্কারের প্রয়োজন পড়বে।
চীনের রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ১৩০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি তিন ঘণ্টার সামান্য কম সময়ে সাংহাই থেকে বেইজিংয়ে পৌঁছায়।
যাত্রীদের একজন লিউ পেং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমি আমার দেশকে নিয়ে সত্যিই আত্মবিশ্বাসী। সি৯১৯ অবশ্যই দিন দিন আরো উন্নত থেকে উন্নততর হবে।”
২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এলভি বোউয়ান রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমি খুবই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছি।”
সাংহাই বিমানবন্দর থেকে সাধারণ একটি ফ্লাইটে তিনি চেংদু যাচ্ছেন। একদিন পর সেখান থেকে সি৯১৯ এর ফ্লাইটে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন এই তরুণ।
রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন পাঁচটি সি৯১৯ এর অর্ডার দিয়েছে।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস, ওইসব অর্ডারের বেশিরভাগই আসলে অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া।
কয়েক বছর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সি৯১৯ এর একটি নকল কপপিটে বসে বিশ্বকে তাদের আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন।
শি এই প্রকল্পটিকে চীনের অন্যতম উদ্ভাবনী সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।
২০১৭ সালে প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ে সি৯১৯। তারপর থেকে আরো বেশ কয়েকবার একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
সিওএমএসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর তারা ১৫০টি উড়োজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এরইমধ্যে তারা বারশ’র বেশি সি৯১৯ এর অর্ডার পেয়ে গেছেন বলেও দাবি করেছে।
এই উড়োজাহাজ তৈরি করেছে কমার্শিয়াল এভিয়েশন করপোরেশন অব চীন (কোমাক)। এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের একক আধিপত্য কমানোর আশাতে চীন নিজেরা এই উড়োজাহাজ তৈরি করেছে। তবে নিজেরা তৈরি করলেও এর ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশসহ বেশির ভাগ সরঞ্জামের জন্য পশ্চিমাদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
প্রথম যাত্রায় তাদের যাত্রী ছিল ১৩০ জনের বেশি। তিন ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে ফ্লাইটটি তার গন্তব্যে পৌঁছেছে। ফ্লাইটটির আবার উপকূলীয় শহরে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় চীন ইস্টার্ন এয়ারলাইন কোমাককে পাঁচটি উড়োজাহাজ তৈরির ফরমাশ দিয়েছে। তবে কোমাকের লক্ষ্য হলো পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক ১৫০টি উড়োজাহাজ তৈরি করবে। এরই মধ্যে তারা সি৯১৯ মডেলের ১ হাজার ২০০ উড়োজাহাজ তৈরির ফরমাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, দেশীয় গ্রাহকদের আগ্রহ প্রকাশ করে দেওয়া চিঠিকে ফরমাশ মনে করা হচ্ছে।
কয়েক বছর আগে সি৯১৯-এর মহড়া চলার সময় ককপিটে বসেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তিনি এই উদ্ভাবনকে চীনের অন্যতম সৃজনশীল অর্জনগুলোর একটি বলে অভিহিত করেছিলেন।