রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন




খেলাপি ঋণ নিয়ে এফআইডি’র পরিকল্পনা-২০৩০

ঋণের শর্তপূরণ হচ্ছে না আইএমএফ’র!

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩ ৯:৪৮ am
imf আইএমএফ International Monetary Fund আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল imf Central Bank কেন্দ্রীয় ব্যাংক Bangladesh Bank bb বাংলাদেশ ব্যাংক বিবি bb
file pic

আইএমএফ’র শর্তের রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের আধিক্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের বিপরীতে ২০২৬ সালের মধ্য খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশে নামাতে বলছে সংস্থাটি। কিন্তু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) ২০৩০ সালে ১০ শতাংশের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে।

এফআইডি’র এপিএ (বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি) প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রার হার তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে এপিএ স্বাক্ষর করেছে এফআইডি। বর্তমান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ২৫ শতাংশে বিরাজ করছে।

শর্ত পূরণ না হলে আইএমএফ’র ঋণে বিরূপ প্রভাব পড়বে কিনা বিষয়ে সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, সমস্যা অবশ্যই হয়। তখন উভয়পক্ষের আলাপ-আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কোনো লাভ নেই। এটি অর্জনের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেটি দেখতে হবে। ২০২৬ কিংবা ২০৩০ সাল কেউ বিশ্বাস করবে না। যতক্ষণ খেলাপি ঋণ কমানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এপিএ প্রতিবেদনে আশঙ্কাজনক হারে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিই রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর প্রধান সমস্যা হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ত হারে সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে আর্থিক ভিত্তি। এছাড়া শ্রেণিকৃত ও অবলোপন করা ঋণ থেকে আদায় কম এবং গুণগত ঋণের শ্লথগতিও অন্যতম বড় সমস্যা হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এজন্য ব্যাংকগুলোতে ভালো মানের ঋণের অঙ্ক বাড়ানোর পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমান খেলাপি ঋণের হার ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সেখান থেকে ২০৩০ সালে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। তবে বিদায়ি অর্থবছরের (২০২২-২৩) খেলাপি ঋণের হার ২৩ শতাংশে বিরাজ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মার্চ এ ৩ মাসে দেশে ব্যাংক খাতে ঋণ ছিল ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা, খেলাপির হার ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর আগে তুলনামূলক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র দেখে আইএমএফ প্রতিনিধিদল কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কেন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খেলাপি ঋণ নামিয়ে আনা যাচ্ছে না।

আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার বিপরীতে বেশ কয়েকটি শর্তও দিয়েছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে খেলাপি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা। এ বিষয়টি নিয়ে ইতঃপূর্বে আইএমএফ প্রতিনিধিদল উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ কমে ২০ দশমিক ০৭ শতাংশে আসে। কিন্তু ২০২২-২৩ অর্থবছরে আবার বেড়ে যায়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আগামীতে প্রতিবছরই ১ শতাংশ হারে খেলাপি ঋণ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে অর্থ আদায়ের যে প্রতিশ্রুতি ব্যাংকগুলো দিয়েছে, বিষয়টি ভালো। কিন্তু ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা, তা ‘ব্যাংক টু ব্যাংক’ ধরে মনিটরিং করতে হবে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক খেলাপি ঋণ ৫৬৫ কোটি টাকা আদায় করবে। এ বছর শ্রেণিকৃত ঋণের অঙ্ক ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনবে। অগ্রণী ব্যাংক আদায় করবে ৭০০ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৫০ কোটি টাকা। পাশাপাশি রূপালী ব্যাংক বলেছে ৪৫০ কোটি টাকা আদায় করবে।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে এফআইডির পরিকল্পনা : খেলাপি ঋণ ছাড়াও চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কিভাবে চলবে, কি ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং ভবিষৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এপিএ প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, বড় একটি জনগোষ্ঠী ব্যাংক সেবার বাইরে আছে। সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলা হয় গ্রাহকদের সেবা মনোন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংক জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রণয়ন করা হবে ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন-২০২৩, সুরক্ষিত লেনদেন (অস্থাবর সম্পত্তি) আইন-২০২২। এছাড়া এ বছর ব্যাংকগুলো কৃষক ও নারীদের মধ্যে ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণ, এসএমই ঋণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ও শিল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। [যুগান্তর]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD