আমদানি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য ভারসাম্যে ও চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা অগ্রগতি হওয়ার মধ্যে আন্ত:ব্যাংকে ডলারের বিনিময় হার উঠলো ১০৯ টাকা ৫০ পয়সায়, যা এ বাজারে সর্বোচ্চ।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেয়া হালনাগাদ তথ্য বলছে, দিনটিতে আন্তঃব্যাংকে ডলার কেনা বেচা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা ৫০ পয়সায়। এর আগে গত ১৫ জুন প্রথমবারের মতো আন্ত:ব্যাংকে ডলারের দর উঠেছিল ১০৯ টাকা।
গত ১ অগাস্ট থেকে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের নতুন দর বেধেঁ দেয়ার পরে আন্তঃব্যাংকেও ডলারের দর র্নিধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ফরেইন এক্সচেঞ্জ ডিলার এসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি।
বাফেদার ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন দর র্নিধারণের পর আন্তঃব্যাংকে ডলার কেনাবেচার সর্বোচ্চ সীমা দাঁড়াবে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার বেধে দেয়া সীমার সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠলো ডলারের দর।
এর আগে গত ৩১ জুলাই ডলারের নতুন বিনিময় হার নির্ধারণ করে বাফেদা-এবিবি। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করতে একাধিক দর একটিতে নিয়ে আসতে একাধিদরের মধ্যে ব্যবধান আরো কমিয়ে আনা হওয় ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তে।
গত ৩১ জুলাইয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার থেকে রপ্তানি আয়ে ডলারের বিনিময় হার হয় ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছিল ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা। আর রেমিটেন্সে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সার বদলে করা হয় ১০৯ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে ডলারের বিনিময় হারের ব্যবধান আরো কমে হয়েছে ৫০ পয়সা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি পর্যায়ে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় রেমিটেন্স ও রপ্তানির বিনিময় হারের ওয়েটেড গড় করে।
এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ওয়েটেড গড় হারের সঙ্গে অতিরিক্ত এক টাকা বেশি নিতে পারবে; অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে এক টাকা।
স্প্রেড সীমা এক টাকা র্নিধারণ করে দেয়ার পাশাপাশি টাকার পরিমাণে তা ১০৯ টাকা ৫০ পয়সার বেশি হবে না আন্তঃব্যাংকে, সেই বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করেছে বাফেদা-এবিবি।
এর আগে গত ১৫ জুন প্রথমবারের মতো আন্ত:ব্যাংকে ডলারের দর উঠেছিল ১০৯ টাকা। একই মাসের ৫ তারিখে তা উঠেছিল ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করে দিচেছ সংগঠন দুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে। এরপর থেকে বিনিময় হারের এই দর প্রতিদিন সকালেই সদস্য ব্যাংকগুলোকে সকালে ডলারের দরগুলো জানিয়ে দিচ্ছে বাফেদা।
গত জুলাই মাসে দেয়া সিদ্ধান্ত না মেনে অনেক ব্যাংক ১০৯ টাকার বেশি দরে ডলার বিক্রি করায় সতর্ক করেছিল বাফেদা-এবিবি। সেই চিঠির সূত্র ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকও বেশি দরে ডলার কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত ১৩ ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্তেও নেমেছে।
আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে আনা হলেও এখনো চাপে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার। চাহিদা মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে একশত কোটি ডলারের বেশি বিক্রি করেছে বাণিজ্যকের কাছে, যেখানে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিক্রি করেছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। তার আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোন ব্যাংক কী পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণ করতে পারবে, তার একটি সীমা (এনওপি-নেট ওপেন পজিশন) নির্ধারণ করে দেওয়া আছে।
আগে ব্যাংকের রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণ করার সুযোগ ছিল। ডলার বাজারের অস্থিরতা কমাতে ২০২২ সালের ১৫ জুলাই তা কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই সীমার বেশি ডলার হাতে থাকলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা অন্য কোনো ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ব্যাংকগুলোর।
এক সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার তুলে নিলেও এখন উল্টো তাদের সহায়তা দিতে ডলার বিক্রি করে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।