করোনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রি-শিপমেন্ট ঋণের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিলের আকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
রোববার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ পৃথক দুটি সার্কুলার জারি করেছে।
এখন থেকে আলোচ্য তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ হবে ৫ শতাংশ। যা আগে ছিল সাড়ে তিন শতাংশ। এতদিন এই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো দশমিক ৫ শতাংশ সুদে অর্থ নিতে পারতো; এখন সুদহার বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল (ইএফপিএফ) ঋণের সুদহারও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ ৫ শতাংশ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ৪ শতাংশ। এ ছাড়া এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো অর্থ নিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিতে হবে ২ শতাংশ সুদ। এতদিন যা ছিল দেড় শতাংশ।
সার্কুলারে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাই হতে কার্যকর হওয়া বাজারভিত্তিক সুদহার নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও ইএফপিএফ’র আওতায় নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের থেকে ব্যাংকগুলোকে এখন ২ শতাংশ সুদে অর্থ নিতে হবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৫ শতাংশ। অপরদিকে রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল (ইএফপিএফ) থেকে ঋণ পেতে হলেই একই হারে সুদ গুণতে হবে। আগে এ খাত থেকে ঋণ পেতে হলে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হারে সুদ গুণতে হত। আর ব্যাংক দেড় শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ সিতে পারতো।
এতে আরও বলা হয়, এ তহবিল হতে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যাংক সময়মত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ওই সময়ের জন্য ব্যাংক রেটে সুদ দিতে হবে।
করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরু হলে ২০২০ সালে ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রি-শিপমেন্ট খাতে অর্থায়নের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে। রপ্তানি পণ্য জাহাজিকরণের আগের খরচ মেটাতে গ্রাহকরা এ ধরনের ঋণ নিতে পারেন। সাধারণভাবে ব্যাংকগুলো রপ্তানি ঋণে ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদ নিয়ে থাকে।
অপরদিকে, বৈশ্বিক সংকটে রপ্তানি খাতকে চাঙা রাখতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি সহায়ক তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত রিজার্ভের অর্থ দিয়ে গঠিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ওপর চাপ কমাতে গঠন করা হয় কম সুদের এই রপ্তানি সহায়ক তহবিল করা হয়েছে।